সত্তরের দশকে অ্যাংরি ইয়ং ম্যান চরিত্রেই বেশি অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু এর মধ্যেও ছিল কিছু কমেডি ও ড্রামা গোত্রের সিনেমা। আবার সিনেমাটি কমেডি না হলেও সেখানে কমিক সিন ছিল আর তাতে অভিনয় করে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন অমিতাভ। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’ সিনেমায় এমন একটি দৃশ্য ছিল। মাতালের অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ। মজার ব্যাপার, দৃশ্যটি শুট করার সময় পরিচালক মনমোহন দেশাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
দৃশ্যটি ছিল প্রায় ৩ মিনিটের। এ দৃশ্যে অ্যান্থনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলে। সে নিজেও বুঝতে পারছিল না, সে আসলে আয়নায় নিজেকে দেখেই কথা বলছে। এ দৃশ্যের আগেই কিছু গুণ্ডার হাতে মার খেয়ে আসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে বিষয়েই কথা বলে। এখানে অমিতাভের অভিনয় খুবই ভালো ছিল, বিশেষত অ্যান্থনি যখন আয়নায় তার প্রতিবিম্বের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধতে যায়। হলে দর্শকদের অবস্থা নাকি তখন এমন হয়েছিল যে তারা হাসি চেপে অ্যান্থনির দুঃখে দুঃখিত হচ্ছিল।
অমর আকবর অ্যান্থনির শুটিং করার সময় মনমোহন ও অমিতাভ দুজনেই আরেকটি সিনেমার শুটিং করছিলেন। পরওয়ারিশ চলছিল আরকে স্টুডিওরই আরেকটি ফ্লোরে। মাতাল অমিতাভের দৃশ্যটি যখন শুটিং চলছে, মনমোহন তখন পরওয়ারিশের ক্লাইমেক্স শুট করছেন। এ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন শাবানা আজমী। সে অভিজ্ঞতা নিয়ে মুম্বাই মিররকে তিনি বলেন, ‘মনমোহন ও অমিতাভ একতলা থেকে আরেক তলায় চলে যেতেন। আর এ দৃশ্যের জন্য অমিতাভকে ১৪টি পারফেক্ট টেক নিতে দেখেছি। ব্যান্ডেজ বাঁধার দৃশ্যটি সে বারবার করেছিল। প্রতিটি দৃশ্যই পারফেক্ট ছিল, কিন্তু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের জন্য তাকে বারবার করতে হয়েছে। অমিতাভ একবারও বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আর সেটা শেষ করেই আবার অন্য ফ্লোরে শুটিং করতে গিয়েছিলেন।’
সে সময় অভিনেতারা একাধিক শিফটে কাজ করতেন। কোনো কোনো অভিনেতা ১৪-১৫টা সিনেমাও করেছেন এক বছরে। অমর আকবর অ্যান্থনি অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা। সত্তরের দশকে সিনেমাটি ১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছিল। সিনেমাটি নিয়ে অমিতাভও তার স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অমর আকবর অ্যান্থনির শুটিং ছিল আরকে স্টুডিওর তৃতীয় তলায়। পরিচালক মনমোহন দেশাই। আমরা একসঙ্গে দুটো সিনেমার শুটিং করছিলাম। দুটোই ছিল আরকে স্টুডিওতে। প্রথমে এক নম্বর ফ্লোরে বিনোদ, আমি ও আমজাদ একটা অ্যাকশন সিন শুট করে ফেললাম। মনমোহনজি আমাকে বললেন, ‘‘তুমি আয়নার দৃশ্যটা রিহার্সাল করো, আমি আরেকটা টেক ওখানে নিয়ে আসি।’’ কিন্তু তিনি আসতে আসতে আমি শটটা ওকে করে ফেলি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে। মূল বিষয়টা কাদের ভাই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। বাকিটা তাৎক্ষণিক।’
অমিতাভ নিজে নিজে শট ওকে করে দেয়ার বিষয়টি মনমোহনের মনে কিছুটা সন্দেহ তৈরি করেছিল। কিন্তু ব্যস্ততায় তিনি আর রিটেক নেননি। প্রায় এক মাস পর দৃশ্যটি আবার দেখেছিলেন সিনেমার ফাইনাল কাটে। অমিতাভের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি ফিরিয়ে না দিলে আমার প্রতিটা সিনেমায়ই তুমি অভিনয় করবে।’
সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










