বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের দুই কিংবদন্তি প্রয়াত শিল্পী শাফিন আহমেদ ও হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। এ দুই শিল্পীর স্মরণে গত শনিবার বিকালে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্মৃতিতে সুরের সারথি’। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ ও মিউজিক কম্পোজার্স সোসাইটি বাংলাদেশ।

আয়োজনে অংশ নেন প্রয়াত দুই শিল্পীর পরিবারের সদস্য, সহশিল্পী, সংগীতকর্মী ও অসংখ্য সংগীতপ্রেমী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিল্পী জয় শাহরিয়ার।

সংগীতে অবদান

বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ডসংগীতে শাফিন আহমেদের অবদান অনন্য। মাইলস ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও বেজ গিটারবাদক হিসেবে তিনি ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’, ‘নীলা’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তারা সূর্য’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও ‘তোমাকেই’ ও ‘পাগলা ঘণ্টি’র মতো গান দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেন। শাফিন আহমেদ গত বছরের ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি কনসার্টে অংশ নিতে যান এবং সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৫ জুলাই তিনি সেখানকার একটি হাসপাতালে মারা যান। 

অন্যদিকে হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী—গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। জুয়েলের প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশ হয় ১৯৯৩ সালে। এরপর একে একে প্রকাশ হয় ‘এক বিকেলে (১৯৯৪)’, ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘দেখা হবে না’ (১৯৯৭), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) ও ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)।

একটি করে গান নিয়ে প্রকাশ হয়েছে আরো দুটি অ্যালবাম, ‘তাতে কীবা আসে যায়’ (২০১৬) ও ‘এ সবুজের ধানক্ষেত’ (২০১৬)। ১০টি একক অ্যালবামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটি। এটি প্রকাশের পর তার নাম হয়ে যায় ‘এক বিকেলের জুয়েল’। জুয়েল একই সঙ্গে সংগীতশিল্পী, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল গত বছরের ৩০ জুলাই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

স্মৃতিচারণ

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন গায়ক হামিন আহমেদ, সংগীত পরিচালক ফোয়াদ নাসের বাবু, গীতিকবি মানাম আহমেদ, সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়া, আসিফ ইকবাল, গোলাম মোর্শেদ, শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী, আফতাব মাহমুদ খুরশীদ, রিপন খান, শওকত আলী ইমন, হাসান মহিবুর রেজা রুবেল, নাঈমুল ইসলাম, রাইসুল ইসলাম রিমন, অন্তরা রহমানসহ অনেকেই। বক্তারা দুই শিল্পীর সৃষ্টিশীল যাত্রা, ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিময় মুহূর্ত ও সংগীতপ্রেমের প্রতি তাদের নিবেদন তুলে ধরেন।

সবশেষে দুই শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের মতে, এ অনুষ্ঠান কেবল স্মরণসভা নয়, বরং ছিল দুই কিংবদন্তির সংগীতযাত্রার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক মিলনমেলা, যা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।