শাহরুখ খানের ক্যারিয়ার জীবনের শুরুর দিকের সিনেমা ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’। গত নভেম্বরে মুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ করল এটি। এ সিনেমার সঙ্গে শাহরুখের সংযুক্তি নিয়ে বেশ মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে পুরো টিমের। 

সম্প্রতি বলিউড হাঙ্গামার এক সাক্ষাৎকারে এর লেখক ও পরিচালক দলের একজন মনোজ লেলওয়ানি জানান, সে সময়ের কিছু স্মৃতি। কাজের প্রয়োজনে তখন দিল্লি আর মুম্বাইয়ের মধ্যে আসা-যাওয়া করতে হতো শাহরুখ খানকে। তখনই বিকাশ দেশাইয়ের পরিচালনা করার কথা ছিল ‘উমিদ’ নামের একটি দুই পর্বের সিরিজ। কাজ দেখে শাহরুখ খানকে চিনতেন মনোজ লেলওয়ানি। ফলে প্রসঙ্গ উঠতেই তার কথা বলেন মনোজ। মনোজের পরামর্শ শুনে শুরুতেই আজিজ মির্জার বক্তব্য ছিল ‘মুম্বাইতে কোনো অভিনেতা নেই নাকি?’ 

একপর্যায়ে রাজি হন তিনি। কিন্তু শাহরুখের সঙ্গে প্রডাকশন টিম কথা বললে জানা যায়, সে ফ্লাইটে যাবে। তখন মুম্বাইয়ের রিটার্ন টিকিটের দাম পড়ত ৫ হাজার রুপি। বিশাল খরচের বহর দেখে আবার না করে দেন আজিজ। আবারো তাকে রাজি করানো হয়। মজার বিষয় হলো, আসার পর পরই সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন শাহরুখ। তারপর আজিজ মনোজকে বলেন, কোনো গল্প আছে নাকি। মনোজের ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’ গল্প লেখা হলে একসঙ্গে কাজ করেন আজিজ আর শাহরুখ।

 শুরুর সময়ের দিকের কিছু স্মৃতিচারণ করে মনোজ বলেন, একসময় শাহরুখ যেন পরিবারেরই একজন হয়ে যান। তখন বেশি অফিসে থাকতেই পছন্দ করতেন শাহরুখ। আর একটু পরপর খেতে চাইতেন ক্যাম্পা কোলা। তখন তাকে বলা হতো, ক্যাম্পা কোলা নেই। এটা দিল্লি নয়, মুম্বাই, এখানে থাম্বস আপ আছে।

রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান সিনেমায় বেশকিছু সংলাপ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেগুলো লিখেছিল বেশ কয়েকজন মিলে। এমনকি নানা পাটেকারের মজার মজার সংলাপের অনেকগুলোই তার নিজের লেখা। মনোজ লেলওয়ানি জানান, সিনেমার কিছু দৃশ্যও পুরোপুরি বাস্তব থেকে অনুপ্রাণিত। 

মনোজ এ সিনেমা সম্পর্কে বলেন, রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান ছবিটির বাজেট ছিল ৮০ লাখ রুপি। তা থেকে শাহরুখ খান পেয়েছিলেন ৫০ হাজার। আর আমি পেয়েছিলাম ২৫ হাজার, সেই সঙ্গে হয়তো ১৫ হাজার পেয়েছিলাম সহযোগী পরিচালক হওয়ার জন্য। 

জুহি আর শাহরুখের কাজ করা প্রসঙ্গে মনোজ জানান, তখন জুহি চাওলার ভক্ত ছিল শাহরুখ খান। এমনকি তার ঘরে জুহির পোস্টারও লাগানো থাকত। ফলে এ কাজের সুযোগ পাওয়া ছিল শাহরুখের স্বপ্ন সত্যি হওয়া। আর জুহির বক্তব্য ছিল অনেকটা এমন, ‘এ আবার কেমন হিরো? কেমন এর চুল? কেমন নাক? একে কীভাবে হিরো বানিয়ে নিতে পারছ।’ শাহরুখের হয়তো গতানুগতিক চেহারা ছিল না কিন্তু অসাধারণ ব্যক্তিত্বই ছিল সবাইকে আকর্ষণ করার কারণ। এমনকি বড় তারকারাও তাকে দেখে বলত, ‘এর কাছে এমন কী জাদু আছে?’