আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার বিকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের বরাতে জানা গেছে কারা পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০২২ সালে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩২টি পুরস্কার দেয়া হবে। 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২২ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছে দুটি সিনেমা। একটি মুহাম্মদ কাইউম পরিচালিত প্রশংসিত সিনেমা ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ ও আরেকটি রায়হান রাফী পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘পরাণ’। এবার আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন অভিনেতা কামরুল আলম খান খসরু ও অভিনেত্রী রওশন আরা রোজিনা। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন চঞ্চল চৌধুরী। ‘হাওয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি এ পুরস্কার অর্জন করতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে যৌথভাবে এ পুরস্কার পাচ্ছেন জয়া আহসান ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। যথাক্রমে ‘বিউটি সার্কাস’ ও ‘শিমু’ সিনেমার জন্য তারা এ পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া শিমু ছবিটির নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কার। 

এছাড়া কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন মুহাম্মদ আব্দুল কাইউম। নিজের অনুভূতি জানিয়ে বণিক বার্তাকে কাইউম বলেন, ‘‌জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমাদের জন্য সত্যি অনেক বড় অর্জন। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে আমাদের কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পাচ্ছে। এ সিনেমার জন্য পুরো টিম অনেক কষ্ট করেছে। আমাদের সবার পরিশ্রমের সফল এ অর্জন, তাই নিজের পুরস্কার থেকে আমাদের সবার এ অর্জন আমাকে বেশি আনন্দ দিচ্ছে। দুই বছর এ সিনেমার শুটিং নিয়ে পুরো টিম অমানুষিক পরিশ্রম করেছে।’ 

এছাড়া অন্যান্য বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছেন দেশের গুণী তারকারা। পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন নাসিরউদ্দিন খান (পরাণ)। পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন আফসানা মিমি (পাপ পুণ্য)। খল চরিত্রে সেরা অভিনেতা হয়েছেন সুভাশিষ ভৌমিক (দেশান্তর)। কৌতুক চরিত্রে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন মো. সাইফুল ইমাম (অপারেশন সুন্দরবন)। শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পীর পুরস্কার যৌথভাবে জিতেছে বৃষ্টি আক্তার ও মুনতাহা এমিলিয়া।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অন্যতম বিভাগ সংগীত। এ বছর ‘‌পায়ের ছাপ’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হয়েছেন মাহমুদুল ইসলাম খান। শ্রেষ্ঠ গায়ক হয়েছেন দুজন—বাপ্পা মজুমদার (এ মন ভিজে যায়) ও চন্দন সিনহা (ঠিকানাবিহীন তোমাকে)। সেরা গায়িকা হয়েছেন আতিয়া আক্তার আনিসা (এই শহরের পথে পথে)। শ্রেষ্ঠ গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবন (ধীরে ধীরে তোর স্বপ্নে) ও শ্রেষ্ঠ সুরকার হয়েছেন শওকত আলী ইমন (এই শহরের পথে পথে)। 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২০২২-এ শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের পুরস্কার যৌথভাবে জিতেছেন ফরিদুর রেজা সাগর (দামাল) ও খোরশেদ আলম (গলুই)। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা এসএ হক অলিক (গলুই) ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার ঘরে তুলেছেন আসাদুজ্জামান (রোহিঙ্গা)। শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহকের পুরস্কার জিতেছেন রিপন নাথ (হাওয়া), পোশাক ও সাজসজ্জার পুরস্কার জিতেছেন তানসিনা শাওন (শিমু) এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান খোকন মোল্লা (অপারেশন সুন্দরবন)। সেরা শিল্প নির্দেশক হিমাদ্রি বড়ুয়া (রোহিঙ্গা) ও সেরা সম্পাদকের পুরস্কার জিতেছেন সুজন মাহমুদ (শিমু)।

চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৫ সাল থেকে নির্মাতা ও কলাকুশলীদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। প্রতি বছর চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান রাখায় দেয়া হয় এ পুরস্কার।