এ বছর এখন পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ভারতীয় সিনেমার দৌড়ে এগিয়ে আছে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’। সিনেমাটি এরই মধ্যে বক্স অফিস থেকে তুলে নিয়েছে হাজার কোটি রুপির বেশি। সেই সঙ্গে দর্শক দিচ্ছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। এদিক থেকে সিনেমাটি আসলেই এগিয়ে থাকছে অনেক। তাছাড়া সিনেমাটি দেখিয়েছে ভালো ভিজুয়াল ট্রিটমেন্ট। এসব কারণে সিনেমাটি নিয়ে ভারতীয় সিনেমা মহলেও বেশ সাড়া পড়ে গেছে। তাই মনে করা হচ্ছে সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসে বেশ বড় একটি জায়গা দখল করবে। কিন্তু তার জন্যই কি একে সেরা সিনেমা বলা যায়?

ব্যাখ্যা করতে হবে কয়েকটি জায়গা থেকে। প্রথমত, এ সিনেমার গল্প। কল্কি ২৮৯৮ এডি বলে দূর অতীতের গল্প। মূলত বর্তমান সময় থেকে বহু পরের পৃথিবীর কথা বলা হচ্ছে এ সিনেমায়। সহজ কথায় একে অনেকে ডিস্টোপিয়ান গল্প বলে অভিহিত করছেন। তবে সিনেমাটিতে আছে ডিস্টোপিয়ার চেয়ে বেশি কিছু। পুরাণের সঙ্গে সিনেমাটির গল্প যোগ করা হয়েছে। পুরাণ বলতে মহাভারত। এর আগে ডিস্টোপিয়ার সঙ্গে মহাভারতকে এভাবে যুক্ত করা হয়নি।

এরপর আসে সিনেমার ভিজুয়াল। এ সিনেমায় মরুভূমির প্রতীতি তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি। সেসব দেখানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ভালো ভিএফএক্স। সিনেমার টিম সে কাজ দারুণভাবে করেছে। অভিনয়েও প্রভাস, অমিতাভ বচ্চন ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় দারুণ কাজ করেছে। সেসব কারণে সিনেমাটি এগিয়ে থাকছে অনেক।

এ বছর তেমন কোনো ভারতীয় সিনেমা ভালো করেনি বক্স অফিসে। প্রশংসা পেয়েছে বেশকিছু সিনেমা। এর মধ্যে আছে ‘মানজুম্মেল বয়েজ’ ও ‘মহারাজা’। বক্স অফিসে ভালো করেছে ফাহাদ ফাসিলের ‘আভেশাম’ও। কিন্তু এ সিনেমাগুলোকে খুব ভালো বলা যায় না। সমালোচকরাও এ নিয়ে তেমন ইতিবাচক মন্তব্য করেননি। সেদিক থেকে তরণ আদর্শ বেশ ভালো রিভিউ দিয়েছেন কল্কিকে। 

কল্কি নাগ অশ্বিনের প্যান ইন্ডিয়ান সিনেমা। এর আগে বলিউডে এ বছর তেমন কোনো সিনেমা ভালো করেনি। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ান’, ‘গদর টু’র মতো সিনেমা এ বছর নেই। কোনো সিনেমাই দর্শকের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসা হাসিল করতে পারেনি। এসব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত এগিয়ে থাকছে কল্কি। অন্য কোনো সিনেমা এখনো সেভাবে আশা জাগাচ্ছে না।