যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির মাদকসম্রাজ্ঞী গ্রিসেল্ডা ব্লাঙ্কো। পরিচিত ছিলেন ‘কোকেন গডমাদার’ হিসেবে। কলম্বিয়া থেকে নিউইয়র্ক, মিয়ামি আর সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০০ খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। বিচিত্র সে জীবন পর্দায় উঠে এসেছে গ্রিসেল্ডা সিরিজের মাধ্যমে। ছয় পর্বের মিনি সিরিজটা গত বৃহস্পতিবার মুক্তি পায় নেটফ্লিক্সে। আন্দ্রে বেইজের পরিচালনায় সিরিজটিতে সোফিয়া ভারগারা রয়েছেন ব্লাঙ্কোর চরিত্রে।
এর আগে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর নেটফ্লিক্স জানায়, গ্রিসেল্ডা ব্লাঙ্কোর জীবন নিয়ে একটি ক্রাইম সিরিজের কাজ শুরু করা হয়েছে। সে সময়ই অভিনেত্রী হিসেবে সোফিয়া ভারগানা ও প্রযোজক হিসেবে এরিক নিউম্যানের কথা জানানো হয়েছিল। পরিচালক আন্দে বেইজ জন্মসূত্রে কলম্বিয়ান। তাছাড়া এর আগে অন্য ক্রাইম সিরিজ নারকোসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি সিরিজের ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হয় নেটফ্লিক্সে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে সোফিয়া বলেন, ‘গ্রেসিল্ডা তার জীবনের প্রথম দিকটা কীভাবে কাটিয়েছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার তিন সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করেছেন। না তার কোনো শিক্ষা ছিল, না জীবনযাপনের কোনো উপকরণ।’ এদিকে এরিক নিউম্যান বলেন, ‘প্রতিটি চরিত্রের পেছনেই ব্যাখ্যা রয়েছে। তিনি সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারেন।’
১৯৪৩ সালে কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ব্লাঙ্কো। মাত্র ১১ বছর বয়সেই এক সম্পদশালী ব্যক্তির পুত্রকে জিম্মি করে পিতামাতার কাছে অর্থ দাবি করেন। ছেলেটির পিতামাতা অস্বীকার করলে তাকে হত্যা করা হয়। নিষ্ঠুরতার কারণে তিনি অন্ধকার জগতে পরিচিতি অর্জন করেন ব্ল্যাক উইডো নামে।
নারী হওয়ার কারণে গা ঢাকা দিতে পারতেন দ্রুত। ফলে অস্বাভাবিক উচ্চতায় উঠেছিল তার মাদক সাম্রাজ্য। তবে ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেফতার হলে সাম্রাজ্য থমকে পড়ে। তাকে অভিযুক্ত করা হয় কোকেন উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহের অভিযোগে। তার জেলে থাকা অবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষরা তিন সন্তানকেই হত্যা করে ফেলে। ২০০৪ সালে তিনি মুক্ত হন, যদিও ততদিনে বদলে গিয়েছিলেন তিনি। নিভৃতে জীবনযাপন করতে থাকেন একা। তার পরও নিয়তি তাকে রেহাই দেয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে গ্রিসেল্ডা সিরিজের পরিচালক আন্দ্রে বেইজ বলেন, ‘পুরুষদের দুনিয়ায় তিনি একজন নারী। বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তি দিয়ে তিনি চারপাশের পুরুষদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।’
সূত্র: বিবিসি










