মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে শিল্প অঙ্গনে। সংগীতশিল্পীদের ট্যুর ও কনসার্ট কেন্দ্রিক প্রয়োজনীয় প্রপসের মূল্য বেড়েছে। ফলে কনসার্টের খরচ পূরণ করতে বাড়াতে হচ্ছে টিকিটের দাম। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে কমে যাচ্ছে টিকিট বিক্রি। এসব কারণে শিল্পীরা তাদের কনসার্টের তারিখ পেছাচ্ছেন। কখনোবা পুরো ট্যুরই বাতিল করছেন।
এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যান্ড অ্যানিমেল কালেক্টিভ তাদের ইউরোপের ট্যুর বাতিল করে। তারা বলেছিলেন বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর কিছুদিন পরে দি ইউকে ডাউনটেম্পোর প্রযোজক বোনোবো বলেন, আমেরিকার শোগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্মূল্য হয়ে গিয়েছে। এর পরপর ইলেকট্রনিক মিউজিশিয়ান ‘ট্যুরিস্ট’
তার আমেরিকার শো বাতিল করে বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে টিকিট একদমই বিক্রি হয় না।’
এ ধরনের ঘোষণার সঙ্গে আরো আছে স্যান্টিগোল্ড, ডেমি লেভাটো, পোপি আজুধা ও মার্কারি পুরস্কারজয়ী লিটল সিমজ। তাদের মতো শিল্পীদের কনসার্ট বাতিল হয়ে যাওয়া একটি বড় ব্যাপার। ক্যারোলিন পোলাচেক বলেছেন, তিনি স্টুডিওতে বেশি সময় দিতে চান এবং জাস্টিন বিবার মানসিক স্বাস্থ্যের ছুতো দিয়েছেন। ইনডিপেনডেন্ট ভেন্যু উইকের প্রতিষ্ঠাতা সাইবিল বেল বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা কোনো না কোনো ট্যুর বাতিল হওয়ার ঘটনা দেখি। এ ব্যাপারগুলো সাধারণ মানুষ খুব একটা পছন্দ করে না। কেলি উড বলেন, ‘এখন সময়টা কঠিন আর সে কারণে প্রডাকশন দুনিয়া ধ্বংসের মুখে।’
তিনি মিউজিশিয়ানস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লাইভ পারফরম্যান্সের ন্যাশনাল অর্গানাইজার। তিনি আরো বলেন, ‘শিল্পীরা স্বেচ্ছায় এসব শো বাতিল করেন না। তাদের হাতে কোনো বিকল্প থাকে না বলেই তারা বাধ্য হন।’
মূল কারণ হলো আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। খরুচে কনসার্ট করার তুলনায় তারিখ পিছিয়ে দেয়া শিল্পীদের জন্য সহজ। মিউজিক ম্যানেজারস ফোরামের প্রধান কার্যনির্বাহী অ্যানাবেলা কোল্ডরিক বলেন, ‘টিকিট বিক্রির গতি ধীর। মানুষ টাকা খরচের ব্যাপারে চিন্তিত। এখানে শ্রমিক সংকট। এছাড়া ট্রাক, ভ্যান ভাড়াও বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। এর বাইরে মুদ্রার মান ও জ্বালানির সংকট রয়েছে। পুরো ব্যাপারটি ভয়ংকর।’
ঠিক কী করলে টিকিট বিক্রি বাড়বে, তা বলা যাচ্ছে না। অনেকে স্ট্রিমিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে আগ্রহ বৃদ্ধির কথা ভাবছেন। কিন্তু স্পটিফাইয়ে লাখ লাখ বার স্ট্রিম হওয়ার মানে কি সে আর্টিস্টকে লোকে সরাসরি শুনতে চায়? মেক দ্য টিংয়ের আর্টিস্ট ম্যানেজার এলিজা বলেন, ‘এমন হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো কোনো গান শিল্পীর তুলনায় বড় হয়। সেক্ষেত্রে টিকিট বিক্রিতে এসব কোনো প্রভাব ফেলে না।’
ব্রেইনচাইল্ড ফেস্টিভ্যালের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মেরিনা ব্লেক বলেন, ‘সবকিছু এখন অনেক নীরব মনে হয়। টিকিট ফ্রি দিলেও লোকে আসে না।’
শো আগেও বাতিল হতো, কিন্তু এখনকার পুরো বিষয়টি আলাদা। বলা যায় শাঁখের করাতের মতো অবস্থায় এসে পৌঁছেছে পুরো বিষয়টি। প্রডাকশন খরচের কারণে বাড়ছে টিকিটের দাম, কিন্তু সে খরচও তোলা যাচ্ছে না। এমন চললে বিশ্ব একসময় কনসার্টশূন্য হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










