বিদেশে ভারতীয় সিনেমার চূড়ান্ত সাফল্যের ক্ষেত্রে দঙ্গল ও আরআরআরের নাম শুরুতে আসে আজকাল। এ দুটো ছবি যথাক্রমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্লকবাস্টার ব্যবসা করেছে। এছাড়া শাহরুখ খানের কিছু ছবি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে একাদিক রেকর্ডের অংশীদার। কিন্তু এসব সিনেমার মিলিত টিকিট বিক্রিকে ছাড়িয়ে গেছে ১৯৮০ এর দশকের একটি রিলিজ।

সংবাদমাধ্যম ডিএনএ জানায়, তাহির হুসেইন পরিচালিত ‘ক্যারাভান’ এই রেকর্ডের মালিক। যিনি এখনকার বলিউড সুপারস্টার আমির খানের বাবা।

১৯৭১ সালে মুক্তি পায় জিতেন্দ্র ও আশা পারেখ অভিনীত ‘ক্যারাভান’। সিনেমাটি দেশে তিন কোটি ৬০ লাখ রুপি ব্যবসা করে সুপারহিটের খেতাব লাভ করে। এর আট বছর পর চীনে মুক্তি পেয়ে অল-টাইম ব্লকবাস্টারের তালিকায় স্থান করে নেয়। দেশটিতে ৩০ কোটি টিকিট বিক্রি হয়, এ রেকর্ড আজো কোনো ভারতীয় সিনেমা ভাঙতে পারেনি।

বাবা তাহের হুসেইনের সঙ্গে আমির খান

বর্তমানে বলিউডে শীর্ষ ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে পরিগণিত হয় আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’। এ সিনেমার এক হাজার ৮০০ কোটি রুপি আয়ের বড় অংশ এসেছে চীন থেকে। ২০১৮ সালে মুক্তির পর দেশটিতে টিকিট বিক্রি হয় সাড়ে চার কোটি। 

‘ক্যারাভান’ আজকাল অতিচর্চিত না হলেও এ সিনেমা রাজ কাপুরের ‘আওয়ারা’র আন্তর্জাতিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। যাকে এক সময় ভারতের অন্যতম ওভারসিজ ব্লকবাস্টার ধরা হতো। চীন ও সোভিয়েত রাশিয়া মিলিয়ে ‘আওয়ারা’র ২০ কোটির বেশি টিকিট বিক্রি হয়।

১৯৭৯ সালে চীনে ৩১ কোটি রুপি আয় করে ‘ক্যারাভান’। মূল্যস্ফীতি মিলিয়ে দেখলে আজকের হিসাবে এক হাজার কোটি রুপির সমান। তবে টিকিটের বর্ধিত মূল্য হিসাব করলে এ অঙ্ক তিন হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্ববাজার থেকে ‘দঙ্গল’ আয় করে এক হাজার ৩০০ কোটি রুপি। ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ আয় করে ৮৬৩ কোটি রুপি। পাঠান ও আরআরআরের আয় ৪০০ কোটি রুপিরও নিচে। তবে ‘বাহুবলি টু’র আয় ছিল ৪২৫ কোটি রুপি। এ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সফল কোনো সিনেমাই ‘ক্যারাভান’-এর ধারে-কাছে নেই।

এত সফলতা সত্ত্বেও ‘ক্যারাভান’ ভারতে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো ছবি নেই। ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া হিট সিনেমাগুলোর একটি মাত্র। ওই বছর মুক্তি পাওয়া হাতি মেরা সাথী, মেরা গাঁও মেরা দেশ বা হরে রাম হরে কৃষ্ণার মতো ব্যবসাসফল সিনেমার নাম ‘ক্যারাভান’-এর বেশি শোনা যায়। তবে চীনে সাংস্কৃতিকভাবে এটি উল্লেখযোগ্য বিদেশী সিনেমা।

২০১৮ সালে আমির খান ‘দঙ্গল’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ সিনেমার প্রচারে চীন গেলে ‘ক্যারাভান’-এর নাম ফের সামনে আসে। এ তারকা জানান, এখনো চীনের মানুষ তার বাবার সিনেমাটি দারুণভাবে মনে রেখেছে।