রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও। গঠিত হয়েছে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের নতুন কমিটি। রাষ্ট্রীয় এ বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন খিজির হায়াত খান। সম্প্রতি তিনি তার কাজ ও সিনে দুনিয়ায় বিচরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. অহিদুর রহমান
এখন কী নিয়ে ব্যস্ত?
যেহেতু রাষ্ট্র একটা দায়িত্ব দিয়েছে, সেটাই সামলানোর চেষ্টা করছি। এটা খুব বড় দায়িত্বের জায়গা। অনেক সিনেমা আটকে আছে। আগামী দুই-তিন মাস জায়গাটায় সময় দিতে চাই। আমার দুটি সিনেমার স্ক্রিপ্ট আছে। প্রথমটি ‘সাম্রাজ্য’ ও দ্বিতীয়টি ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’। দুটি কাজই আগামী বছর শুরু করব।
চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অঙ্গনে সংস্কার হচ্ছে। কমিটি নিয়ে ব্যস্ত সবাই, কোনো নতুন সিনেমা দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
চলচ্চিত্র অঙ্গনে পুরাতন কমিটির মধ্যে যেগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে, এগুলো আগে ঠিক করতে হবে। তারপর কাজ শুরু করা যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রযোজক অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করছেন। গত সরকারের সঙ্গে বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক থাকায় অনেক প্রযোজক বিপদে আছেন। সবকিছু স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। আমার বিশ্বাস দু-এক মাসের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটিগুলো কাজ শুরু করতে পারবে।
নতুন সার্টিফিকেশন বোর্ড হওয়ার পর কতগুলো সিনেমা দেখা হয়েছে?
এরই মধ্যে ছয়টা দেখেছি। সবক’টিই সার্টিফিকেশন পাবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। চেষ্টা করছি আটকে থাকা সিনেমাগুলোকে দ্রুত মুক্তি দেয়ার।
যে সিনেমাগুলো দেখা হচ্ছে, এগুলো কিসের ভিত্তিতে ছাড় দেয়া হচ্ছে?
এ মুহূর্তে আমরা ২০২৩ সালের সার্টিফিকেশন আইনের মধ্যে আছি। এ আইনের বিধিমালা নেই, ফলে গ্রেডিংয়ে যেতে পারছি না। ১৯৬৩ সালের সেন্সর আইন ও এর অধীনে ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালের বিধিকে কেন্দ্র করে আপাতত সিনেমার সার্টিফিকেশন দেয়া হবে। গ্রেডিংটা তখনই হবে, যখন বিধিমালা তৈরি হয়ে যাবে। দ্রুত করা যাচ্ছে না, কারণ আইনটাকে সংস্কার করা দরকার।
নতুন চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগের কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মুখ দেখে অনুদান দেয়া হয়। নতুন কমিটি থেকে কী প্রত্যাশা করেন?
অনুদান কমিটির আমি কেউ নই। তবে যারা কমিটিতে আছেন, আমার বিশ্বাস তারা নতুন বাংলাদেশের আওয়াজ শুনতে পাবেন। সিনেমার কনসেপ্ট, উদ্দেশ্য, সিনেমার ধরন সব বিষয় যাচাই-বাছাই করেই অনুদান দেবে এ আশা রাখি। শুধু অনুদান কমিটি নয়, প্রতিটি কমিটি আগের কমিটি থেকে নিশ্চয়ই ভালো করবে। কারণ নতুন কমিটিতে স্পিরিটই আলাদা। সব কমিটিতেই তরুণদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুদানের যে অর্থ দেয়া হয়, তা সিনেমা বানানোর জন্য যথেষ্ট কিনা, নির্মাতা হিসেবে আপনার কী মনে হয়?
নির্মাতা হিসেবে আমি যেহেতু অনুদান নিইনি, এ পদ্ধতি নিয়ে শতভাগ বলতেও পারব না। তবে বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মী যারা অনুদান নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন, তাদের এ নিয়ে অনেক পর্যবেক্ষণ আছে। যেমন বর্তমান বিশ্বের ফিল্মের বাজার চিন্তা করলে অনুদানের টাকাটা যথেষ্ট নয়। যেভাবে অনুদানের টাকা চার ধাপে দেয়া হয়, সেটা নিয়েও রয়েছে আপত্তি। টাকাটা আমার মনে হয় দুইবার দেয়া উচিত। অনুদান পেতে হলে এফডিসিতে কাজ করতে হবে, এ ধরনের অবাস্তব নিয়মও বাদ দেয়া উচিত। কারণ সিনেমা নির্মাণ এখন আর এফডিসি-নির্ভর নয়। যাদের অনুদান দেয়া হবে, তাদের সময় বেঁধে দেয়া উচিত যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিনেমাটি শেষ করতে হবে। পাশাপাশি অনুদানের টাকায় নির্মিত সিনেমাগুলো যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, এটাও কমিটির মনিটরিং করতে হবে। সরকারকে তোষামোদ করার জন্য যেন অনুদান দেয়া না হয়। বরং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিনিধিত্ব করে, এমন সিনেমায়ই অনুদান দেয়া উচিত।
আপনি বলছিলেন অনুদানের টাকা দুই ধাপে দিতে, বিষয়টি পরিষ্কার করে যদি বলতেন।
একবার ফিফটি পার্সেন্ট অ্যাডভান্স দেবে। এরপর কমিটি সিনেমার অর্ধেক অংশ দেখাতে বলবে। ধরা যাক, ১ কোটি টাকার সিনেমা। তাহলে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার পর অনুদানকৃত সিনেমার ফুটেজ দেখতে চাইবে। তারপর বাকি আরেক ধাপে টাকা দিলে পুরো সিনেমা শেষ করে ফেলবে। আস্তে আস্তে টাকা দিলে কিছুটা শুট করে বন্ধ রাখা হয়। এভাবে আসলে ভালো সিনেমা তৈরি হয় না।
এরই মধ্যে চলচ্চিত্রে বেশকিছু সংস্কার হয়েছে। এর বাইরে আপনি কেমন পরিবর্তন চান?
আমি চাই আমাদের সিনেমায় আন্তর্জাতিক ফান্ডিং যেন থাকে। প্রাইভেট সেক্টর যেন এগিয়ে আসে। সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরকেও আমাদের উদ্বুদ্ধ করা উচিত। তারা যেন বাংলাদেশের সিনেমায় ইনভেস্ট করতে আগ্রহী হয়।










