ওপেনহাইমারের শুটিংয়ের জন্য পুরো টিম একত্রে ছিল বেশ অনেকদিন। শুটিং হয়েছিল মেক্সিকোয়। টিম নিয়ে সেখানেই ছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান। সিনেমার অভিনেত্রী এমিলি ব্লান্টের মতে, পুরো বিষয়টি ছিল পিকনিকের মতো। সবাই হইহল্লা, আনন্দ করে সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে কিলিয়ান মারফি ছিলেন ব্যতিক্রম। সবার মধ্যে থেকেও নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিলেন তিনি। এমিলি বলেন, ‘আমাদের জন্য ওপেনহাইমারের শুটিং ছিল সামার ক্যাম্পের মতো। সিনেমার কাস্ট ও পুরো টিমের জন্য এটা সম্ভব হয়েছিল। আমরা মেক্সিকোয় রীতিমতো মরুভূমির মধ্যে ছিলাম। টিমে যারা ছিলাম তারাই ছিলাম একে অন্যের জন্য। আমি আর ম্যাট ছিলাম রুমমেট। একসঙ্গে ডিনারে চলে যেতাম কিন্তু মারফিকে পাওয়া যেত না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও সে সময়ের বিজ্ঞানীকে নিয়ে নির্মিত এ সিনেমা কিলিয়ান মারফির জন্য বিশেষ। প্রথমবারের মতো তিনি এত বড় একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। চরিত্রটি ঠিকভাবে করার জন্য কিলিয়ানের মধ্যে একটা তাড়না কাজ করত। এমিলির মতে, তার কাঁধে চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। এমিলি বলেন, ‘যে পরিমাণ চাপ এ সিনেমার জন্য সে নিয়েছে তা অভাবনীয়।’ ম্যাট ডেমনের কণ্ঠেও একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে আসতে চাইত। কিন্তু তার পেট খালি থাকলেও মাথা এতটাই ভর্তি থাকত যে আমার সুযোগ ছিল না।’
মারফি আর নোলান মোটামুটি একসূত্রে গাঁথা। এর আগে নোলানের একাধিক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। মারফির অভিনয় যারা দেখেছেন তাদের মাথায় সে চরিত্রগুলো গেঁথে আছে। কিন্তু সে চরিত্রগুলোর স্ত্রিন টাইম এত কম ছিল যে নির্দিষ্ট অভিনয়টুকু বাদে মারফির কিছু করার ছিল না। সিনেমায় আরো বড় চরিত্র পাওয়ার জন্য তিনি অনেকবার বলেছেন নোলানকে। দিলেন তো দিলেন, সম্ভবত নোলানের এ পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় প্রজেক্টের প্রধান চরিত্রটাই দিয়েছেন। সে কারণেই চাপটা ছিল বেশি। পিপল ম্যাগাজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, ‘এ ধরনের একটা চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়া মানে অনেকটা দায়িত্ব এসে ভর করা। পুরো বিষয়টা অনেক ভালো লাগার, পাশাপাশি অনেকটা চাপের।’
মারফি যে নোলানের সিনেমায় অভিনয় করতে খুবই আগ্রহী তা তিনি বারবারই বলেছেন। এ সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বা সবসময়ই খোলাখুলিভাবে ক্রিসকে বলেছি তার সিনেমায় যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী। কিন্তু আমি আসলে তার সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র হতে চাইতাম। অনেকটাই বলা যায় আমার স্বপ্ন ছিল।’
ওপেনহাইমারের চরিত্রটি মারফির কাছে আসার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সে (নোলান) একদিন আমাকে বলল, ‘‘শোনো, আমি ওপেনহাইমারকে নিয়ে একটা চিত্রনাট্য লিখেছি। আমি চাই তুমি আমার সিনেমায় ওপেনহাইমার হও।’’ আমার জন্য সেটা ছিল একটা অসাধারণ দিন। আমাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক সম্মানবোধ ছিল। আমি জানতাম আমার ওপর একটা বড় দায়িত্ব এসে পড়ছে আর সেটা আমি ভালোভাবে করতে চাই।’
সূত্র: পিপল










