ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় এখনো ১৫ কিলোমিটার রেলপথ পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চারদিন পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও ট্রেনের স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। মূলত পানিতে তলিয়ে থাকা রেলপথ দিয়ে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে ধারাবাহিকভাবে ট্রেনের গতি বাড়ানো হচ্ছে। 

রেলের প্রকৌশল বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভয়াবহ বন্যায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চারটি রেলপথের মোট ৫৬ কিলোমিটার ট্র্যাক পানিতে ডুবে যায়। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। বন্যায় পানির তীব্র স্রোতের কারণে অন্তত ১৩ কিলোমিটার রেললাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথর, মাটি ও বালি সরে গিয়ে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী রেললাইন মেরামতে ৬ কোটি টাকার বাজেট করা হলেও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে খরচ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা। 

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ বন্যায় রেলপথের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা অনুযায়ী, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়। এ সময় ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলার রেলপথ ডুবে যায়। 

এ পরিস্থিতিতে ২২ আগস্ট দুপুরের পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকাসহ সিলেট, চাঁদপুরসহ বেশ কয়েকটি সেকশনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চারদিন বন্ধ থাকার পর ২৬ আগস্ট রাত থেকে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করে রেলওয়ে। 

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফেনী অংশে। মুহুরীগঞ্জ থেকে ফেনী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার রেললাইন পানিতে ডুবে যায়। এর মধ্যে ফাজিলপুর থেকে কালিদহ পর্যন্ত দুটি রেললাইনের সাত কিলোমিটার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ রেলপথের কিছু কিছু অংশের ডাবল লাইনের একটি লাইন (আপ লাইন) পাথর ও বালি পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে স্লিপার ও রেলপাতগুলো শূন্যে ঝুলছিল। তবে তুলনামূলকভাব কম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই লাইন (ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাউন লাইন) দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করে।