সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদনের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী রোববার আদালতে আবেদন জমা দেয়া হবে। দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

অন্যরা হলেন তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, মেয়ে সাফিয়া তাসনিম খান, ছেলে শাফি মোদ্দাছির খান; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, একই মন্ত্রণালয়ের ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক সচিব হারুন-অর-রশীদ বিশ্বাস, জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের এপিএস মনির হোসেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাকির হোসেন, ইমরান আহমেদ, এ কে এম সরওয়ার জাহান, শেখ আফিল উদ্দিন, এনামুল হক, মেহের আফরোজ, স্বপন ভট্টাচার্য, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ ও শেখ হেলাল উদ্দীন।

এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ৮ মন্ত্রী ও ৬ এমপির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) আদালতে আবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া সাবেক মন্ত্রীরা হলেন— সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। সংসদ সদস্যরা হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য সলিম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ কিরণ, কুজেন্দ্র লালা ত্রিপুরা, কাজীম উদ্দিন, নুর ই আলম চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান। দুদকের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার এ আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সাবেক এমপিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব সাবেক মন্ত্রী, এমপিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।