‘আয়নাঘর’ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে মায়ের ডাক। বিভিন্ন সময়ে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে এসব ভুক্তভোগী পরিবার। নিখোঁজ অনেকেই ফিরে এসে আয়নাঘর নামক গোপন কারাগারে বন্দি ছিলেন বলে দাবি করেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে এখনো চুপ আছে। তাই গুমের বিষয়ে দ্রুত সুস্পষ্ট ঘোষণাসহ শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এমন দাবি জানানো হয়।
আয়নাঘর নিয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদে সই করেছেন, এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এ কমিটি একটি তদন্ত কমিটি করতে বলেছে, কিন্তু তদন্ত কমিটিই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জড়িতদের যেন আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হয়।’
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী সাইয়েদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের অনেক মানবাধিকার সংগঠন পার্টি স্টেট। কিন্তু এগুলো শুধু লিখিত ও নামসর্বস্ব। আজ এখানে এসে যেসব বাচ্চা কান্না করল, তাদের হাসি ফিরিয়ে দিতে না পারলে আমাদের এগুলো ব্যর্থ।’
দ্রুত সুস্পষ্ট ঘোষণাসহ শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের এখন অতীতকে স্মরণ করে ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। কল্পনাও করা যাবে না, গত সরকারের অধীনে পুলিশ কতটা অমানবিক ছিল। আমি ২৩ ঘণ্টা গুম ছিলাম, দুই মাস জেলে ছিলাম। সে সময় এমন অনেক ঘটনা দেখেছি, সেগুলো লিখলে বিরাট এক বই হয়ে যাবে।’
গুম থেকে ফিরে আসা মাইকেল চাকমা বলেন, ‘২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল ঢাকার কল্যাণপুর থেকে সাদা পোশাকধারী সাতজন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। শেখ হাসিনার পতনের পর আমাকে আমার এলাকার একটি জায়গায় ছেড়ে দিয়ে আসে। সেখান থেকে আমি বহু কষ্টে বাড়ি পৌঁছি। শেখ হাসিনা এ গুমের মাধ্যমে আমাদের এ ভয় দেখিয়েছিলেন। দেশে আয়নাঘর নামে যেসব বন্দিশালা আছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। লেখক-কবি-শিল্পীরাসহ সবাই এসবের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে তা বন্ধ হবে না।’
ক্লোজআপ ওয়ানের শিল্পী এইচ এম রানা বলেন, ‘আমাকে ডিবি অফিস থেকে ফোন দিয়ে বলে আপনি আসুন, চা খেয়ে চলে যাবেন। তারপর আমি গেলে আমাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি বাড়িতে আটক রাখা হয়। আমার পরিবারকে মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমার পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়। আমি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছিলাম বলে আমাকে জামায়াত-শিবির ট্যাগ দিয়ে আটক রাখা হয়। আমি কাজ হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি।’










