রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের রূপরেখাসংবলিত জুলাই সনদ ঘোষণা নিয়ে টালবাহানা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘এ ঘোষণা আদায়ে আগামী মাসের শুরুতে ফের ছাত্র-জনতাকে নিয়ে রাজপথে নামব; জুলাই সনদ আদায় করেই ছাড়ব।’ গতকাল সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে এ মন্তব্য করেন নাহিদ।
আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচি। কবর জিয়ারতে অংশ নেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা প্রমুখ। পরে তারা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
গতকাল শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে এনসিপি নেতারা দেশের ৬৪ জেলায় ভ্রমণ করবেন এবং জুলাই আন্দোলনে আহত, শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।
আবু সাঈদরা যে কারণে শহীদ হয়েছিলেন, সে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য জুলাই পদযাত্রা বলে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ পুলিশের গুলির সামনে যেভাবে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল, সেটাই জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল। যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষ, আবু সাঈদ, ওয়াসিম মুগ্ধসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঠিক এক বছর আগে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সেই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। ১৬ জুলাই শহীদ মিনার থেকে আমরা আবু সাঈদের মৃত্যুর কথা শুনতে পেয়েছিলাম। তখন পুরো বাংলাদেশ শোকে, দ্রোহে কেঁপে উঠেছিল। আমাদের আন্দোলন কেবল সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না। একটি দল পরিবর্তন কিংবা ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য এ গণ-অভ্যুত্থান ঘটেনি।’
রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গাইবান্ধায় পথসভা ও পদযাত্রা করে এনসিপি। এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘খুনি হাসিনার বিচারসহ নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং সংবিধান সংস্কার চাইলে এনসিপির কোনো বিকল্প নেই। তাই মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে জনগণ আমাদের পাশে থাকবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, গাইবান্ধা জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারীর ফিহাদুর রহমান দিবস, সাদুল্লাপুর উপজেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সমন্বয়কারী, রায়হান মিয়া রাজু, সোহেল মিয়াসহ অনেকে।
বেলা ৩টায় রংপুরের পার্কের মোড়, লালবাগ, শাপলা চত্বর, জাহাজ কোম্পানির মোড় পদযাত্রা করে টাউন হলে পথসভা করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুরের পীরগাছায় সভার মধ্য দিয়ে গতকালের কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।










