জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম শিগগির বাংলাদেশ সফরে আসছে। এ টিম ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সুপারিশ করবে।

মুখপাত্র গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতিসংঘ আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল নিয়োজিত করবে, তাদের লক্ষ্য হবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি, মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এগিয়ে নেয়ার জন্য সুপারিশ করা।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সত্য অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। দলটি এই কাজে পূর্ণ সহযোগিতার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।’ 

তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের একটি অগ্রবর্তী দলের সপ্তাহব্যাপী সফর শেষ হওয়ার পরে মুখপাত্র এ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি অগ্রবর্তী দল গত সপ্তাহে (২২-২৯ আগস্ট পর্যন্ত) বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকারী ছাত্র নেতাদের মধ্যে যাদের অনেকেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় আটক বা আহত হয়েছেন তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি এ টিম বিস্তৃত পরিসরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। অগ্রবর্তী দলটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছে। এ টিম সংস্কার প্রক্রিয়া ছাড়াও নাগরিক অধিকার, সত্যানুসন্ধান, ন্যায়বিচার, চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ ও সংহতি এবং অন্যান্য মানবাধিকারের বিষয়সহ বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেছে, যেখানে আমাদের হাইকমিশন অফিস টেকসই সহায়তা প্রদান করতে পারে।’