মসুর ডাল ও সার কেনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। গতকাল অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ ভবনের চতুর্থ তলায় ক্রয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসব কেনাকাটার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে অন্তত আটজন উপদেষ্টাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বৈঠক শেষে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমে বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘‌সার সরবরাহ আমরা কোনোভাবেই কমতে দেব না। আর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মধ্যে মসুর ডাল গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমরা কিনব।’

অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‌আজকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সার ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য মসুর ডাল ক্রয়। আমরা অনুমোদন দিয়েছি। এজন্য যা অর্থকড়ি লাগে সেটা ফরেন কারেন্সিতে হোক, আমরা দেব। এটা দ্রুতই করতে হবে।’

গতকাল অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকটি উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির প্রথম বৈঠক। বৈঠকে চারটি প্রস্তাব উপস্থাপিত ও আলোচিত হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব ওঠে। বৈঠকে চারটি প্রস্তাবই অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ১১তম লটে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতি টন ৩৪৪ দশমিক ৫০ ডলার হিসাবে ওই সার কিনতে মোট ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবে বাংলাদেশের বহুজাতিক সার কারখানা কাফকো থেকে কেনা হচ্ছে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার। প্রতি টন ৩৩২ দশমিক ৭৫ ডলার দরে মোট খরচ হবে ১১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

তৃতীয় প্রস্তাবে কাতারের মুনতাজাত থেকে কেনা হচ্ছে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার। প্রতি টন ৩৩৯ দশমিক ১৭ ডলার হিসাবে এতে মোট খরচ হচ্ছে ১২০ কোটি ৬ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ৫০ কেজির বস্তার ২০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হচ্ছে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে। এতে খরচ হবে ২০৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।