ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বজ্রপাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আট জেলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনা, জামালপুর ও সুনামগঞ্জে তিনজন করে, হবিগঞ্জে দুজন এবং নোয়াখালী, বগুড়া, নওগাঁ ও ঝালকাঠিতে একজন করে রয়েছেন। অনেক জেলায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বসতঘর ভেঙে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত—
জামালপুর: মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখীতে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৫৬), মেয়ে ফরিদা আক্তার (৩৫) ও মোছা. ফতে বেগম (৪০)। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ঘরের ওপর গাছ পড়ে গাছের চাপায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।’
বগুড়া: জেলায় মধ্যরাতে হঠাৎ কালবৈশাখীতে দোকানের ওপর গাছ পড়ে উমা চন্দ্র (৫২) নামে এক পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে জেলার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের লাঠিগঞ্জ বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উমা চন্দ্র গাবতলী উপজেলার চকরাধিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কালিদাসের ছেলে।
ফেনী: জেলায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে, বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বসতঘর ভেঙে পড়েছে। গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এ ঝড়ে পুরো জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, কালবৈশাখীতে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরশুরাম পৌর এলাকার বাসপদুয়া, গুথুমা ও মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, নিজকালিকাপুর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের তীব্রতায় গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নওগাঁ: কালবৈশাখীতে জেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার কয়েকটি উপজেলায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নিহত আরাফাতুন (২০) তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রানীনগর উপজেলার কালিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, তীব্র ঝড়ে রানীনগর ও আত্রাই উপজেলায় শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেত্রকোনা: খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট (ফেরি) এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। এছাড়া বেলা ৩টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মণ্ডল নামে কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ: হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময়ে সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের আরো এক কৃষকের মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জ: পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুস সালামও (৩৫) বজ্রপাতে মারা যান।
নোয়াখালী: হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আরাফাত হোসেন মৃত আফছার মিয়ার ছেলে।
ঝালকাঠি: নলছিটি উপজেলায় দমকা হাওয়ার কারণে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ধসে নাফিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম পাওতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।










