সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘শুধু পাটগ্রাম নয়, সারা বাংলাদেশকে পাটগ্রাম বানিয়ে ফেলেছে একটি দল। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন কল্পনাও করা যায় না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কতগুলো মৌলিক সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। আমরা সেই সংস্কারগুলোর কথা বলেছি। আমরা সেই সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়ব।’

গতকাল বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত এ সমাবেশের আয়োজন করে।

নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র লক্ষ করা যাচ্ছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে আমরা বহু ধরনের ষড়যন্ত্র লক্ষ করছি। বহু ধরনের কথাবার্তা আমরা শুনতে পাচ্ছি। বহু ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আলামত আমরা বুঝতে পারছি।’

শেখ হাসিনার সব বাহিনীর দুর্দান্ত প্রতাপ ছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জায়গায় জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল। কিন্তু জনগণের জাগরণ-বিস্ফোরণ যখন হয়েছে, তখন কি তাদের কেউ রক্ষা করতে পেরেছে? জনগণ এত মূল্য দিয়ে একটা পরিবর্তন এনেছে, সেই জনগণ আরেকটা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেবে না। এ লড়াই ততদিন চলবে, যতদিন প্রিয় দেশের বুকে ফ্যাসিবাদের সামান্য চিহ্ন থাকবে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘কেউ যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলের নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে থাকেন তাহলে আমরা বলব, সেই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করব। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। প্রশাসনকে ব্যবহার করে কিংবা কালো টাকার খেলা সহ্য করা হবে না। আপনাদের মনে রাখতে হবে আবু সাঈদদের সঙ্গীরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেও তারা আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছে। আমরা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখব।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫৪ বছর জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমতো জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে। জনগণের প্রতিটি ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য সমানতালে ঘরে-বাইরে লড়াই করেছে। এ দেশের জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করেছে। জামায়াতে ইসলামী প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলেছে। ১৯৯১ সালে ওই কায়দায় প্রথম একটি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর আরো দুই-তিনটি নির্বাচন হয়েছে। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে।’

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে দুজন আমির, দুজন নায়েবে আমির, দুজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও একজন নির্বাহী পরিষদের সদস্যকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সেসব নেতা বেঁচে থাকলে এ জাতিকে আশাজাগানিয়া কথা বলতেন। শহীদেরা আমাদের মুক্তির জন্য, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য লড়াই করেছিলেন। আমি যুবকদের বলতে চাই, তোমরা জীবন দেয়ার জন্য প্রস্তুত হও। লড়াই চালিয়ে যাও মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললে, স্যাটেলাইট মিডিয়ার সামনে দাঁড়ালে আমরা দেখতে পাচ্ছি বীভৎস কিছু মানুষের থাবা। আমাদের মায়ের ইজ্জতের ওপর এ থাবা। মানুষের জীবনের ওপর থাবা। জনগণের সম্পদের ওপর এ থাবা দেখছি। তারা নিজেরাই নিজেদের লোককে খুন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যদি ২০২৪-এ ক্ষমতার পরিবর্তন না হতো, তাহলে তোমরা কি এভাবে মুক্ত বাতাসে চলাফেরা করতে পারতে? আমি বিশ্বাস করি, এ পরিবর্তনের আন্দোলনে সব বিরোধী দলের সীমাহীন ত্যাগ রয়েছে।’

রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। জনসভায় বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী, ইসলামী আন্দোলন রংপুর মহানগরের সভাপতি আব্দুর রহমান কাশেমী, গণঅধিকার পরিষদ রংপুরের আহ্বায়ক শেরে খোদা আসাদুল্লাহ প্রমুখ।