যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সাবেক রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া হিশামের অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তার বিরুদ্ধে মারধর, চুরি ও পারিবারিক সহিংসতার মতো একাধিক অভিযোগের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টিও তার পরিবার নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত নাহিদার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

e6e5dec9-da7b-4434-97f5-a806b4d31777

বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টি

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নাহিদা এস বৃষ্টিও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল দুজনকে সর্বশেষ দেখা যায়। সেদিন জামিলকে তার ছাত্রাবাসে দেখা গিয়েছিল। বৃষ্টিকে দেখা গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশবিজ্ঞান ভবনে।

হিলসবরো কাউন্টির পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া হিশাম আবুঘারবিয়াহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি লিমনের সাবেক রুমমেট। গত ১৬ এপ্রিল লিমনের নিখোঁজ হওয়ার পর হিশামকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে তিনি সহযোগিতা বন্ধ করে দিলে শুক্রবার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর আটকে রাখেন। পরে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গেলে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

হিশাম আবুগারবিয়েহ

হিশাম আবুঘারবিয়াহ (২৬)

পুলিশ জানিয়েছে, হিশামের বিরুদ্ধে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা ও তথ্য গোপন রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, হিশামের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে গ্রেফতারের সময় তিনি আর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।

আদালত ও শেরিফ কার্যালয়ের নথি বলছে, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল। একটি ফাঁকা বাড়িতে চুরির অভিযোগও ছিল। পারিবারিক সহিংসতার কারণে তার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল। একই বছরে মারধরের অভিযোগে তাকে দুবার গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হিশামের এমন সহিংস আচরণের ধারাবাহিকতা এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরো তথ্য জানা যাবে।

জামিলের পরিবার জানিয়েছে, তারা ১০ দিন ধরে তার খোঁজ করছিল। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেছেন, পরিবার গভীর শোকে আছে। তারা জানতে চায় কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে। পরিবার আরো জানিয়েছে, জামিল ও বৃষ্টি বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিষয়টি দুই পরিবারই জানত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।