মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পর পরই হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে তেহরান। হামলা স্থগিতের ঘোষণাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে ইরান সরকার। খবর রয়টার্স।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ‘সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের’ দায়ে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজ দুটিকে জব্দ করে ইরানি উপকূলে নিয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।

একই দিনে ওমানের উত্তর-পূর্বে তিনটি কনটেইনার জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে তিনি ইরানে হামলা স্থগিত করেছেন। শান্তি আলোচনার জন্য নেতাদের একটি সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ বিরতি চলবে।

হামলা স্থগিত থাকলেও সমুদ্র অবরোধ অব্যাহত রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত শনিবার একটি কার্গো জাহাজ জব্দ এবং মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তেহরান এ অবরোধকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাফ জানিয়েছে, অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।

সেই সঙ্গে ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের ঘোষণাকে অবিশ্বাসের চোখে দেখছে তেহরান। ইরান সরকারের একজন উপদেষ্টার দাবি, ট্রাম্পের এ ঘোষণা আদতে একটি ‘কৌশলগত চাল’ মাত্র।

অন্যদিকে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে একটি বিলাসবহুল হোটেলে আলোচনার মঞ্চ তৈরি থাকলেও কোনো পক্ষই আলোচনায় উপস্থিত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন ছাড়েনি আর ইরানও আমন্ত্রণ গ্রহণ করেনি। তবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।