বাংলাদেশে চলমান পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভের ওপর ভারত নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত নদী ও পানিবণ্টন ইস্যু সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এনএনআই বলছে, নয়াদিল্লিতে গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জয়সওয়াল। এ সময় বাংলাদেশে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা বললে, আমি আগেও যেমন বলেছি, আমরা চাই বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে উঠুক। এটিই আমাদের প্রত্যাশা এবং এর জন্যই আমরা কাজ করতে চাই।’

ভারত বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে মন্তব্য করে জয়সওয়াল বলেন, সেখানে নানা ঘটনাপ্রবাহ ঘটছে এবং আমরা সেগুলো অনুসরণ করছি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী এবং গঠনমূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।’

এ সময় গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যৌথ পানিসম্পদ সম্পর্কিত যেকোনো আলোচনা নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে। আমি আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গা নদীসহ সব সীমানাবিহীন যৌথ নদীর বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই একমাত্র নির্ধারিত কাঠামোবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।’

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি ভারতের একটি স্থায়ী আমন্ত্রণপত্র বা নিমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। আমরা এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো নতুন অগ্রগতি হলে আপনাদের জানানো হবে।’

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি ঢাকায় এনসিপির একটি প্রতিবাদ সমাবেশে প্রচুর ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়া হয়। এ ব্যাপারে ভারতের কোনো বক্তব্য আছে কিনা? জবাবে জয়সওয়ালের উত্তর, ‘আমরা সেখানে উদ্ভূত এ ঘটনাপ্রবাহগুলোর ওপর নজর রাখছি।’