গত জুলাই ও আগস্টে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেড় সহস্রাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন ৮২৯ জন। হাসপাতালটিতে আহত হয়ে যারা এসেছেন তাদের ৭৯ শতাংশই বুলেটবিদ্ধ ছিলেন। গতকাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়। 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, দেশের সর্ববৃহৎ এ হাসপাতালটিতে গত ১৫ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬১৩ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তাদের মধ্যে ৮২৯ জনকেই ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ অর্থাৎ ৬৫৬ জন বুলেটবিদ্ধ হয়েছিলেন। আর মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৭২।  

তিনি বলেন, ‘মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে গুলির আঘাতে, বিশেষ করে হেডশট ও বুকে গুলির কারণে। মৃতদের ৮৫ শতাংশের ময়নাতদন্ত সম্ভব হয়েছে।’ ময়নাতদন্ত না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের কাজ পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ কেস হলে মর্গে মরদেহ পাঠানো হয় এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ ময়নাতদন্ত করে। প্রথম ধাপে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে মৃত্যুর শিকার সবার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ধাপে মৃত অবস্থায় আসা কিছু মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়নি, কারণ প্রায় এক সপ্তাহ পুলিশ ছিল না। কিছু পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্তে বাধা দিয়েছেন, যদিও তাদের বোঝানো হয়েছিল যে বিচারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

পরিচালক জানান, যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা গেছেন, তাদের সব তথ্য রয়েছে ও তাদের ডেথ সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। তবে মৃত অবস্থায় আসা ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য না থাকায় তাদের সার্টিফিকেট দেয়া সম্ভব হয়নি। কিছু মরদেহের  পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করেছে। যাদের পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হয়নি, তাদের মরদেহ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দেয়া হয়েছে। সঠিক সংখ্যাটি পুলিশ জানাতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের আগামী ১০০ দিনের জন্য নেয়া পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাসপাতালের উন্মুক্ত জায়গায় পার্ক করা অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আগমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের চিহ্নিত করে তাদের প্রতিরোধের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।