সচিবালয় ঘেরাও করে আন্দোলনে আনসারের পোশাকে বহিরাগতরাও ছিল বলে জানিয়েছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। গতকাল রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাহিনীর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বহিরাগতদের উপস্থিতির যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশকিছু গ্রুপ ছিল। যেখানে প্রত্যেক আনসার সদস্যকে বাহিনীর পোশাক পরিহিত হয়ে আসার পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি পোশাক নিয়ে আসতে বলা হয়। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, আনসারের পোশাকে আন্দোলনে বহিরাগতরা ছিল। এ তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। এমনকি আমি নিজেও বিভিন্ন গ্রুপে এমন নির্দেশনা দেখেছি। সচিবালয়ে আনসার সদস্যরা অবস্থান নেয়ার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এমনকি সেই আলোচনায় আন্দোলনরত আনসারদের সমন্বয়করা ছিল। আলোচনা শেষে তাদের দাবি মানার বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছি। একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তারা বাইরে এসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণাও দেয়। কিন্তু সেখানে বহিরাগতরা থাকায় আন্দোলন থেকে সরে আসছিল না।’
আনসার ডিজি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমেই বোঝা যাচ্ছে, আসলে তাদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু। এমনকি সমন্বয়করা বিষয়টি স্বীকারও করেছে যে তাদের ঘোষণা মানা হচ্ছিল না। এমনকি এসব আন্দোলনে নানা অপকর্মের কারণে চাকরি হারানো আনসার সদস্যরাও ছিল না। আন্দোলনটা শুরুতে আনসারদের থাকলেও পরে অন্য কারো হাতে চলে যায়।’
আনসার ডিজি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা আমাদের সব অস্ত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কারণ অবাধ্য কারো হাতে অস্ত্র থাকলে সেটি দেশ ও জাতির জন্য ঝুঁকির কারণ। কর্মস্থল ত্যাগ করা আনসারদের চাকরি স্থগিত করা হয়েছে। কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা কর্মস্থলে ফেরেননি তাদের পলাতক হিসেবে ধরা হয়েছে। যারা সাধারণ আনসারদের ইন্ধন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে গোপালগঞ্জ জেলায় ২৯ হাজার আনসার সদস্য নিয়োগের তথ্য সঠিক নয়। প্রতিটি জেলার আলাদা সংখ্যা নির্ধারিত থাকে। তাই বেশি নিয়োগের সুযোগ নেই। গোপালগঞ্জ জেলা থেকে নিয়োগ পাওয়া আনসারদের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০।’










