সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন,
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের চেতনায় যে বিস্ফোরণ হয়েছে, এ বিস্ফোরণ, উৎসাহ
ও উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু
আমাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতাসহ আরো অনেক কারণে আমরা এগোতে পারিনি।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে
আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি
এ কথা বলেন। রাষ্ট্রচিন্তা ও গ্রন্থিক প্রকাশনীর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বদিউল আলম বলেন, ১৯৭০-৭১ সালে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একই অবস্থা
ছিল। মাথাপিছু ও রফতানি আয়, জিডিপি সব সূচকে একই ছিল। এখন তাদের মাথাপিছু আয় ৩৫ হাজার
ডলার, আর আমাদের টেনেটুনে এখনো ৩ হাজারও হয়নি। অথচ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বলে কিছু
নেই।
তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু উন্নতি হয়নি। বহু অবকাঠামোগত
উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার
উন্নয়ন হয়নি। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট অনুযায়ী আমাদের মতো রাষ্ট্রের দরিদ্র থাকার কথা
নয়। আমাদের তরুণ সম্পদকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে বাংলাদেশ আরো অনেক দূর
এগিয়ে যেত।
সেমিনারে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক লেখক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, করোনার
সময় আমরা দেখেছি, ২২টা ব্যাংক ছয় মাসে এসএমই খাতে শূন্য পরিমাণ ঋণ দিয়েছে। এ ধরনের
বুদ্ধিবৃত্তিক দুবৃর্ত্তায়ন যেন বাংলাদেশে আর না হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের
সুস্পষ্ট রেগুলেটরি ভূমিকা থাকা দরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন দুই অংকের মূল্যস্ফীতি ছিল, তখন এক অংকের
লোন ব্যবস্থার মাধ্যমে আামদের বৃহৎ শিল্প পরিবারগুলোকে ব্যাংকিং লোন দেয়া হয়েছে। ৯০
দশকে আমাদের অর্থনীতির শক্তির জায়গা ছিল এসএমই খাতের বিকাশ। অথচ অনির্বাচিত সরকার ব্যাংকিং
ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র বৃহৎ কংলোমারেটদের সেবায় নিয়োজিত করেছে। এর ফলে আমাদের এসএমই
খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসমএমই খাত বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
করে। তারা ঋণ না পাওয়ায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিহীন হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষা নিদারুণভাবে অযোগ্য হয়ে আছে। আমাদের
শিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের সম্পর্ককে পুনঃস্থাপিত করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
আজ বেকার উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের
লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কর্মের অনিশ্চয়তাকে দূর করার জন্য আমাদের পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক নতুন
করে সাজাতে হবে। এখানে শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতাকে আমাদের টেকসই উন্নয়নের
কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ২০১১ সালে মাইক্রোক্রেডিট সংগঠনগুলোর এক সম্মেলনে পরিষ্কারভাবে
বলা হয়, দারিদ্র বিমোচন এবং কর্মসংস্থানের সবচেয়ে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো ‘অ্যাকসেস
টু ফাইন্যান্স’। আজকে আমাদের তরুণদের ’অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স’ নেই।
লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, আমরা চাই, একচেটিয়া ক্ষমতার যুগ
আর ফেরত না আসুক। রাজনীতি একটা প্রতিযোগিতার জায়গা। এখানে জামায়াত থাকবে, হেফাজত থাকবে,
বিএনপি থাকবে, কমিউনিস্ট থাকবে, মধ্যপন্থী থাকবে। কিন্তু সবাইকেই বাংলাদেশপন্থী হতে
হবে। গত ৫০ বছরে সব সরকার কোনো না কোনো পন্থী ছিল।
আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একা ক্ষমতায় যাওয়ার একচেটিয়াপনাই
হচ্ছে প্রতিবিপ্লব। এটাই আওয়ামী লীগের পদ্ধতি। এক সময় জামায়াত ঠেকাতে গিয়ে তারা বাংলাদেশকে
ধ্বংস করে দিয়েছে। জামায়াত ঠেকাবার নামে স্বাধীনতাই বিসর্জন দিয়েছে। অথচ জামায়াত ঠেকানো
দূরের কথা, আপনি স্বাধীনতাই ভারতের কাছে দিয়ে দিলেন। সেটা কেমন জামায়াত ঠেকানো, কেমন
দেশপ্রেম?
এছাড়া যুব উন্নয়নের নামে টাকা লুটপাট করা হয়েছে দাবি করে বিগত ১৫
বছরে যুব উন্নয়নের নামে পরিচালিত সব প্রকল্পের শ্বেতপত্র বের করার আহ্বান জানান ড.
নিয়াজ আসাদুল্লাহ।










