ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক এলাকায় ঘরের টিন উড়ে যায়, গাছ ভেঙে সড়কে পড়ে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। ঝড় থেমে গেলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত:

গাইবান্ধা: গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোচাশহর গ্রামে গতকাল বিকালে আকস্মিক কালবৈশাখীতে ঘরবাড়ি ও গাছপালা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গ্রামটির অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালের দিকে হঠাৎ কালো মেঘ জমে প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় টিনের ঘরবাড়ি উড়ে যায়, অনেক গাছ উপড়ে পড়ে এবং মাঠের পাকা ও আধাপাকা ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীরা জানান, অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছে তারা। কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহরুল হক জাহিদ জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও: জেলায় প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী চলা ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক এলাকায় ঘরের টিন উড়ে যায়, গাছ ভেঙে সড়কে পড়ে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে সদর উপজেলা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে। অনেক পরিবারের বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। কোথাও টিনের চাল উড়ে গেছে, কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর কবীর বলেন, ‘‌আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে দ্রুত প্রতিবেদন দেয়া হবে।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘‌কালবৈশাখীর কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর আমরা পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে মাঠে নামানো হয়েছে।’