অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে কথা বলেন। গত ১৫ বছর ধরে যতগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, হত্যা হয়েছে, গুম হয়েছে প্রত্যেকটির তদন্তের ব্যবস্থা করুন। এটা আপনারা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) বললে জাতিসংঘ অবশ্যই করবে। ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যে অত্যাচার-নিপীড়ন-হত্যাকাণ্ড, গুমের ঘটনা হয়েছে, প্রত্যেকটির তদন্ত এ জাতিসংঘের কমিটি দিয়ে করতে হবে এবং তার ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল এক সংহতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংহতি সভা হয়। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘকাল রাজনীতিতে আছি, অ্যারেস্ট হওয়া জানতাম, হত্যা করা জানতাম কিন্তু গুম করে দেয়া এটা আমাদের জানা ছিল না। এ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার করে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী যে অপরাধ, সেই অপরাধ সংঘটিত করেছে। আজ অত্যন্ত ভালো কথা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গুমবিরোধী জাতিসংঘের সনদে সই করেছেন। আমরা জানতাম আগের সরকার এতে সই করেনি। জাতিসংঘ থেকে একটি দল এসেছে, এটা প্রাথমিক দল, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম। কিন্তু এদের যে টার্মস অব রেফারেন্স, গত দুই মাসে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সেটা তারা তদন্ত করবে।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই বাচ্চাটা, সাফা, সে যখন বলছে, “‍আমি আমার বাবার হাত ধরে রাস্তায় হাঁটতে চাই, ঈদের নামাজ পড়তে যেতে চাই”, তখন পিতা হয়ে আমি তার কষ্ট সংবরণ করতে পারি না। আজকে তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা গুমের ঘটনার জন্য দায়ী, আমরা তাদের কম-বেশি চিনি। যারা দায়িত্বে ছিলেন, র‌্যাবের দায়িত্বে ছিলেন, পুলিশের বিশেষ বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন, তাদের খুঁজে বের করতে হবে, তাদের শাস্তি দিতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার জন্য একটা সার্বিক প্রকল্প করেছিল, গুম তার একটি প্রকল্প। গুমের মাধ্যমে ভয়ভীতি সঞ্চার করে সাধারণ মানুষ যাতে তার (শেখ হাসিনা) স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করতে না পারে সেজন্য এ প্রকল্প সে নিয়েছিল। এ প্রকল্পের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে হবে, এ প্রকল্পে যারা সহায়তা দিয়েছে, সেই সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। যারা জেনেশুনে চোখ বন্ধ করে ছিল, জেনেও না জানার ভান করে ছিল, দেখেও না দেখার ভান করে ছিল, তাদেরও সামনে আনতে হবে। মোট কথা, এ প্রকল্পের সার্বিক সত্যতা জনসম্মুখে আনতে হবে।’

৬১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের শিলংয়ে উদ্ধার হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন গুম প্রতিরোধ দিবসের এ অনুষ্ঠানে।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির মানবাধিকার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল, গুম হওয়া ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনা, চৌধুরী আলমের মেয়ে খাদিজা আখতার, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজীদা ইসলাম তুলিসহ গুম হওয়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।