গতকাল ভোরে এ কিংবদন্তি ভারতীয় আলোকচিত্রী ৮৩ বছর বয়সে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার পারিবারিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন। গতকাল বিকালে দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রঘু রাই ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্রী ছিলেন। সে সময় ভারতে আশ্রয়শিবির ঘুরে বাংলাদেশী শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবনচিত্র তুলে ধরেন তার ক্যামেরার লেন্সে। শুধু তা-ই নয়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ, বিজয়ের মুহূর্ত এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দৃশ্যও তিনি ধারণ করেন। তার তোলা ছবিগুলো মুক্তিযুদ্ধের এক অমূল্য ভিজুয়াল আর্কাইভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গ্যালারিতে রঘু রাইয়ের তোলা ছবি গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।
২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে রঘু রাইয়ের ছবি নিয়ে ‘রাইজ অব আ নেশন’ শিরোনামে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তার ছবি দেশে-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র, প্রতিবেদন ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
১৯৪২ সালে জন্ম নেয়া রঘু রাই তার কর্মজীবনে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, মানবতাবাদী মাদার তেরেসা, আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ছবি তুলে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ে তার তোলা ছবিগুলোও ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
রঘু রাইয়ের কাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার আলোকচিত্র টাইম, লাইফ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউজউইকের মতো বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একাধিক আলোকচিত্র গ্রন্থ প্রকাশ করেন, যেখানে ইতিহাস, মানবতা ও সময়ের নানা দিক ফুটে উঠেছে।
তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। সমালোচকদের মতে, রঘু রাইয়ের ছবি নিজেই কথা বলে—অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না।










