লেনদেনসংক্রান্ত অসম্পূর্ণ তথ্য ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আদানি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কনগ্লোমারেটটির সবচেয়ে পরিচিত কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজেস। তবে একাধিক কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমে এসব নোটিসের গুরুতর কোনো প্রভাব পড়বে না। খবর নিক্কেই এশিয়া।

আদানি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলো চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের কর্মকর্তারা জানান, মার্চ প্রান্তিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (এসইবিএ) কাছ থেকে দুটি নোটিস এসেছে। নোটিসে বলা হচ্ছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য প্রণীত বিধি মেনে চলেনি আদানি এন্টারপ্রাইজেস। কিছু পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য প্রকাশের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। তবে নিয়ম লঙ্ঘন ও সম্পৃক্ত পক্ষগুলো সম্পর্কে অভিযোগের বিস্তারিত জানায় আদানি এন্টারপ্রাইজেস।

তবে কর্মকর্তারা মনে করেন, আর্থিক বিবৃতি নিয়ে এ নোটিসগুলোর বস্তুগত কোনো প্রভাব কোম্পানির ওপর পড়বে না। তাদের কর্মকাণ্ডে প্রযোজ্য আইন ও বিধির প্রতি অসম্মতি ছিল না।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের সূত্র ধরে গৌতম আদানির মালিকানাধীন গ্রুপটি সারা বিশ্বে আলোচনায় চলে আসে। এরপর আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে নিয়ন্ত্রকরা। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ কনগ্লোমারেটটির বিরুদ্ধে শেয়ারের দাম প্রভাবিতসহ বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এদিকে মার্চ প্রান্তিকে নোটিস পাওয়া আদানির অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আদানি পাওয়ার, আদানি টোটাল গ্যাস, আদানি এনার্জি সলিউশনস, আদানি উইলমার ও আদানি পোর্টস।

নোটিস পাওয়ার খবরের পর শেয়ারবাজারে আদানির কোম্পানিগুলোর দরপতন ঘটেছে। দরপতনের এ হার দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত।

নোটিস প্রসঙ্গে আদানি পাওয়ার জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের জানিয়েছে যে তৃতীয় পক্ষের লেনদেন সম্পর্কে তথ্য আর্থিক বিবৃতি বা বার্ষিক প্রতিবেদনে যথাযথভাবে দেখানো হয়নি। এমনকি এ ধরনের লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন চাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে আদানি উইলমার ও আদানি টোটাল বলেছে, নোটিসে গত আর্থিক বছরের জন্য কোম্পানির অডিটরদের নেয়া সনদের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।