সুতা কেনাবেচার জন্য প্রসিদ্ধ নারায়ণগঞ্জের টানবাজার। এ বাজারে সুতার দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ছয় মাস ধরে সুতার দাম বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়েছেন কাপড় উৎপাদনে জড়িতরা।

টানবাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ৪৮-৬০ টাকা দরে। দুই মাস আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ৪৬-৫৬ টাকা দরে। সে হিসাবে সুতার দাম বেড়েছে ৮ টাকা। ২০ কাউন্টের সুতা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৮০-১০৫ টাকা দরে। একই কাউন্টের সুতা বাজারে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কেনাবেচা হয়েছিল ৭৫-৯৫ টাকা দরে। সে হিসাবে এ কাউন্টের সুতার দাম বেড়েছে পাউন্ডপ্রতি ১৫ টাকা। ৩০, ৩২, ৩৪ ও ৩৬ কাউন্টের রফতানিযোগ্য চিকন সুতার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে এ সুতার দাম পাউন্ডপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০-৬০ টাকা। বাজারে বর্তমানে চিকন সুতা বেচাকেনা হচ্ছে প্রকারভেদে ১৫০-১৬০ টাকা দরে। ৪০ কাউন্টের সুতা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫২-১৬৫ টাকা দরে। একই কাউন্টের সুতা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেচাকেনা হয়েছিল ১৪৫-১৫৫ টাকা পাউন্ড। সে হিসাবে এ কাউন্টের সুতার দাম বেড়েছে ১৫ টাকা করে। ৫০ কাউন্টের সুতা বিক্রি হচ্ছে ১৭৭-১৮০ টাকা পাউন্ড। গত মাসের মাঝামাঝি সময়েও এ সুতা বেচাকেনা হয়েছিল ১৬৫-১৭০ টাকা দরে। সে হিসাবে দাম বেড়েছে পাউন্ডপ্রতি ১৫-২০ টাকা।

৬০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ২৫০-২৭০ টাকা দরে। এ সুতা দুই মাস আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ২৩৫-২৫৫ টাকা দরে। সে হিসাবে এ কাউন্টের সুতার দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা।

৮০ কাউন্টের সুতা বেচাকেনা হচ্ছে ৩৩০-৩৪৫ টাকা দরে। দু-আড়াই মাস আগে বেচাকেনা হয়েছিল ৩১০-৩২৫ টাকা দরে। সে হিসাবে দাম বেড়েছে পাউন্ডপ্রতি ২০-৩০ টাকা।

নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের সুতা ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সাহা জানান, ছয় মাস ধরে সুতার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে গার্মেন্টস কোয়ালিটির চিকন সুতার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

সুতা ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, করোনার সময় বাংলাদেশের গার্মেন্টসগুলোতে বিদেশী ক্রেতাদের (বায়ার) ক্রয়াদেশ বেড়েছে। ফলে সুতার চাহিদাও বেড়েছে। এ সুযোগে স্পিনিং মিলগুলো সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা জানান, কয়েক মাস ধরে সুতার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দুই মাস ধরে দাম বেড়ে আর কমেনি।