যুক্তরাষ্ট্রে ওজন কমানোর ওষুধের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে নভো নরডিস্কের উইগোভি ট্রায়ালে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই (জানুয়ারি-মার্চ) এ ওষুধের জন্য ক্রয়াদেশের হার পাঁচ গুণ বেড়েছে। ওষুধ উৎপাদনকারী নভো নরডিস্কের তথ্যানুযায়ী, এক সপ্তাহে আবেদনের পরিমাণ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। খবর বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক স্থূলকায় এবং ১০ শতাংশের বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। আর এরাই কোম্পানির ব্যবসা বিস্তারের ক্ষেত্রে বড় প্রভাবক। কিন্তু ওষুধের উচ্চ মূল্য যুক্তরাষ্ট্রে অনেক স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানিকে উসকে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রবীণদের জন্য সরকারি পরিকল্পনা মেডিকেয়ারেও প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়া হয়।
গত মাসে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে উইগোভি ওষুধ বিক্রিতে মাসিক ১ হাজার ৩৪৯ ডলার নির্ধারণ করেছে নভো নরডিস্ক। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪০ পাউন্ডে এটি কেনা সম্ভব। নভো নরডিস্কের জর্জেনসন স্বীকার করেছেন যে চিকিৎসার চাহিদা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।
এখন পর্যন্ত নভো নরডিস্কের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগও করেছে কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কার্স্টেন মুঙ্ক নুডসেন। তার মতে, ডিসেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উইগোভির চাহিদা পাঁচ গুণ বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে সমস্যা কমে আসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই এটি ত্রুটিমুক্ত সরবরাহ চেইন তৈরির উদাহরণ।’
সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ডায়াবেটিসের ওজেমপিকের সঙ্গে ওজন কমানোর এ ওষুধের বেশ চাহিদা তৈরি হয়েছে বলেই ক্রেতার সংখ্যার বাড়ছে। ওজেমপিক ইউরোপ অঞ্চলে সাড়া ফেলে দিয়েছে এবং নভো নরডিস্ককে মূল্যবান কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কিন্তু কোম্পানিটি বর্তমানে অন্য একটি সমস্যার সম্মুখীন। এসব ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এর সমালোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে এলি লিলির মতো কোম্পানি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপকালে কোম্পানিটি জানায়, প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। এছাড়া সামনের মাসগুলোয় উইগোভি ও ওজেমপিকের দামও কমানো হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরবরাহ সংকট, পণ্যের নিম্নমুখী দাম সত্ত্বেও সামগ্রিক বিক্রি চলতি বছর ২৭ শতাংশ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী লারস ফ্রুয়ারগার্ড জর্গেনসেন বলেন, ‘কম দামে পণ্য বিক্রির তুলনায় স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থায় আমাদের হাতে ভালো সুযোগ রয়েছে।’ তার মতে, বাজারের বিভিন্ন অংশে পৌঁছার জন্য কোম্পানির যে প্রচেষ্টা তা দাম কমাতে বাধ্য করছে। সামগ্রিকভাবে নভো নরডিস্কের তথ্যানুযায়ী, মার্চের শেষ নাগাদ বিশ্বে ৪ কোটি ২০ লাখ রোগীর কাছে ওষুধ সরবরাহ করেছে।










