প্রাকৃতিক গ্যাসের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সমন্বিত নিট আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অ্যাডনক গ্যাস। ২০২৩ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় এ বৃদ্ধির পরিমাণ ২১ শতাংশ। খবর দ্য ন্যাশনাল।
মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির নিট আয় ১১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অ্যাডনক গ্যাস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাহিদার শক্তিশালী বৃদ্ধির কারণে বার্ষিক আয় বেড়ে ৬০০ কোটি ডলার হয়েছে। এ সময় সামগ্রিক বিক্রি বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে বাড়তি খরচের কারণে বার্ষিক মুনাফা ৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১১৮ কোটি ডলার। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে সুদ, কর ও অন্যান্য খরচের আগে (ইবিআইটিডিএ) মুনাফা ১৭ শতাংশ বেড়ে ২০০ কোটি ডলার হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি লভ্যাংশের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে অ্যাডনক গ্যাস। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ড. আহমেদ আলেব্রি জানান, চলতি বছরে বার্ষিক লভ্যাংশ ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৪১ কোটি ডলার বণ্টন করা হবে।
বিস্তৃত পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশির ভাগ ইউটিলিটি ও শিল্প সংস্থাকে গ্যাস সরবরাহ করে অ্যাডনক গ্যাস। দেশের পাশাপাশি কোম্পানিটির ইথেন, বিউটেন ও প্রোপেন, প্যারাফিনিক ন্যাফথা, গ্যাস কনডেনসেট ও সালফারভিত্তিক পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা রয়েছে।
অ্যাডনক সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের ৯৫ শতাংশ পরিচালনা করে। এ মজুদের আকার বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম।
আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে উপস্থিতি ও ব্যবসা বাড়াতে অ্যাডনক গ্যাস নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কোম্পানির সরবরাহ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইউরোপ, ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত বাজার। এ লক্ষ্যে ২০২৪-২৮ সালের মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিষেবায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে।
এদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত বিষয়টি সামনে রেখেই বিনিয়োগ পরিকল্পনা করছে অ্যাডনক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদা ২০৫০ সালে ৫ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার দাঁড়াবে, যা ২০২২ সালে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ২ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার।










