পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধারা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি আলোচনার আয়োজন করেছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ। ‘এইচএসবিসি ইনসাইটস: নেভিগেটিং গ্লোবাল ট্রেড ডাইনামিকস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় পরিবর্তিত বাণিজ্যিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও বাংলাদেশের রফতানি খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় এবং ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা মোকাবেলার পরামর্শ দেয়ার উদ্দেশ্যেই এইচএসবিসি গ্রাহকদের নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান; বিজিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট ও রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান, এইচএসবিসি গ্লোবাল ট্রেড সলিউশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এশিয়া রিজিওনাল হেড আদিত্য গহলাট, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান এবং এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর অব ইকোনমিক্স ইনেস ওয়াই কে লাম। অনুষ্ঠানে তারা প্রত্যেকেই পরিবর্তিত বাণিজ্যিক পরিবেশ, আঞ্চলিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের রফতানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে তাদের মতামত দেন।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অগ্রাধিকার বদলের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। এই গতিশীল পরিবেশে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক থাকতে ব্যবসাগুলো তাদের বাণিজ্য ও ট্রেজারি কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য এইচএসবিসি ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও অর্থায়ন বিষয়ক এই আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে।
মাহমুদ হাসান খান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্ক সুবিধা থাকার কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাণিজ্যে অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত ডিজাইন ও প্রযুক্তি, ফাইবার উদ্ভাবন ও বহুমুখী বাণিজ্যিক পণ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে রফতানি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ এসেছে।
আদিত্য গহলাট বলেন, শুল্ক নীতির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আগেই বিশ্ব বাণিজ্য কাঠামো মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছিল। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য এইচএসবিসির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতা গ্রাহকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম। তার মতে, প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং আঞ্চলিকভাবে একটি স্থিতিশীল বাণিজ্য পরিবেশ গড়ে তুলতেও অবদান রাখতে পারে।
মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। এইচএসবিসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং বাজারজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারা গ্রাহকদের পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলে ও এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সাহায্য করে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে এইচএসবিসি বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত ও স্থিতিশীল থাকতে এবং নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য ও ট্রেজারি অংশীদার হিসেবে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
—বিজ্ঞপ্তি










