বেনাপোল কাস্টম হাউজের ১৩টি পদে নিয়োগের জন্য সাড়ে পাঁচ বছর আগে দেয়া হয়েছিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। এতে আবেদন করেছিলেন ৬৪ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী। এতদিনেও নিয়োগ পরীক্ষা চূড়ান্ত না করায় বেনাপোল কাস্টম হাউজকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ নোটিস পাওয়ার পর এক বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করে কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ। তাতেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, বেনাপোল কাস্টম হাউজের জনবল সংকট নিরসনের জন্য ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে চার, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই, উচ্চমান সহকারী পদে ছয়, ক্যাশিয়ার পদে এক, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পাঁচ, গাড়িচালক পদে ১০, টেলিফোন অপারেটর পদে এক, সিপাহি পদে ৫৬, ফটোকপি অপারেটর পদে দুই, ইলেকট্রিশিয়ান পদে এক, অফিস সহায়ক পদে তিন ও নিরাপত্তাপ্রহরী পদে একজনকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর মধ্যে ১৩ পদে ৯৪ জনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৬৪ হাজার। জমাকৃত আবেদনের মধ্যে ছিল কম্পিউটার অপারেটর পদে ১ হাজার ৩৭৬, সাঁট লিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ৮০৭, উচ্চমান সহকারী পদে ১৮ হাজার ৬১০, ক্যাশিয়ার পদে ৪১৯, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৯১, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৫ হাজার ৩৩২, গাড়িচালক পদে ৯০৭, টেলিফোন অপারেটর পদে ৪৮, সিপাহি পদে ৩২ হাজার ৯২৫, ফটোকপি অপারেটর পদে ২১০, ইলেকট্রিশিয়ান পদে ৭৬, অফিস সহায়ক পদে ২ হাজার ৩৯ ও নিরাপত্তাপ্রহরী পদে ১৪১। এছাড়াও নামবিহীন কয়েকটি পদে আবেদনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৯৮।
কাস্টমস সূত্রগুলো বলছে, আবেদন যাচাই-বাছাই করে ৫২ হাজার পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের জন্য ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য করে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়। সেই লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। নির্ধারিত তারিখে সিপাহি পদে ফিটনেস পরীক্ষাও শুরু হয়। একই সালের ২২ ও ২৩ নভেম্বর সিপাহি পদে শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বেনাপোল কাস্টম হাউজে। ৩২ হাজার ৯২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭ হাজার ৯৬২ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার ৭৩৫ জন। উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর। কিন্তু পরীক্ষার জন্য কাস্টম হাউজে পর্যাপ্ত জায়গা ও জনবলের অভাবে অনেক পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি।
বেনাপোল কাস্টমসের ভেতরে সিপাহি পদে ফিটনেস পরীক্ষার সময় বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তাদের নানা অনিয়মের বিষয়টি চাউর হয়। যে কারণে ২৫ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের লাগাতার তদবিরে নড়েচড়ে বসে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর পরীক্ষা গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ অবধি তাও বন্ধ হয়ে যায়।
একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ পরীক্ষা চূড়ান্ত না করায় বেনাপোল কাস্টম হাউজকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় এনবিআর। এ নোটিস পাওয়ার পর এক বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করে কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ, যা আগামী ডিসেম্বর শেষ হবে। অথচ নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের জট খুলছে না এখনো। কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে সেই বিষয়ে কোনো কিছু বলতে নারাজ কর্মকর্তারা। এতে করে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রত্যাশীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারো কারো চাকরির বয়সও পার হয়ে গেছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এ নিয়োগ নিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, করোনার কারণে দেশে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে দেশ থেকে করোনা মহামারী কমতে শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বেনাপোল কাস্টম হাউজ থেকে ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার জন্য এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি আমাদের কাছে পরীক্ষা গ্রহণের সমস্যাগুলো জানতে চেয়েছে এনবিআর। আমি কিছুদিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্তভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানাব। আশা করছি, রাজস্ব বোর্ড পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিলে পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হবে। সেই সঙ্গে দ্রুত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে।










