‘রাইট টু গ্রো’ কনসোর্টিয়ামের সহায়তায় অনূর্ধ্ব-৫ শিশুদের জন্য নাগরিক সমাজ প্লাটফর্মের (CSP4CU5) জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ের প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা, পুষ্টি ও ওয়াশ খাতে সরকারি কর্মসূচিতে বহু-অংশীজন সংলাপ আরো শক্তিশালী করা, গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে শিশু অপুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর বহুপাক্ষিক অংশীদারত্ব গঠনের পথ প্রশস্ত করা।
সম্মেলনে উপজেলা পর্যায় থেকে আগত প্রায় ৮৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন নাগরিক সমাজের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, একাডেমিশিয়ান, সাংবাদিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অনূর্ধ্ব-৫ শিশুদের পুষ্টি ও ওয়াশ খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়, অগ্রগতির পর্যালোচনা এবং নীতিগত সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ।
উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও রাইট টু গ্রো স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারপারসন ড. তারিকুল ইসলাম। রাইট টু গ্রো কনসোর্টিয়ামের টিম লিড ইকবাল আজাদ প্লাটফর্ম গঠনের পটভূমি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ উইংয়ের যুগ্ম সচিব ফজলে আজিম এবং বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপপরিচালক ডা. আক্তার ইমাম।

সম্মেলনে নীতি ও উন্নয়ন বিশ্লেষক আমানুর রহমান ‘Revive, Reconnect, Re-nourish: Rebuilding Civil Society for Under-Five Children’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্লাটফর্মের চেয়ারপারসন সায়কা সিরাজ, সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক তানিয়া শরমিন, এসিএফ-এর উপ-দেশ পরিচালক তপন চক্রবর্তী, এইচএলপিএফ-এর সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং ড. তারিকুল ইসলাম। তারা প্লাটফর্মের চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং প্রকল্পনির্ভরতা কমিয়ে নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী শিশুদের পুষ্টির জন্য রাইট টু গ্রো কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে যে অনুশীলন হয়েছে, তা বেশ কার্যকর হয়েছে বলে সম্মেলনে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দরিদ্র, প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের পুষ্টিহীনতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়।
সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল পটুয়াখালী সদর ও গলাচিপা, বরগুনার তালতলী, খুলনার ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সিএসও প্রতিনিধিদের উপস্থাপনা। তারা জানিয়েছেন, কীভাবে তারা সংশ্লিষ্ট ৪০টি ইউনিয়ন পরিষদকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি টাকা পুষ্টি ও ওয়াশ খাতে বরাদ্দ দিতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং বাজেট বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকি করেন।
সমাপনী অধিবেশনে সিএসও প্লাটফর্মের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে সরকার, একাডেমিয়া ও দাতা সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণে উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়, যেটি পরিচালনা করেন প্লাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক ইমাম মাহমুদ রিয়াদ। সম্মেলনের শেষে গৃহীত হয় একটি যৌথ ঘোষণাপত্র ও সুপারিশমালা, যা অনূর্ধ্ব-৫ শিশুদের পুষ্টি ও ওয়াশ খাতে সিএসওদের ভূমিকা আরো জোরদার করতে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে নিম্নোক্ত করণীয় নির্ধারণ করা হয়:
- রাইট টু গ্রো প্রোগ্রামের পর প্লাটফর্মের টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কৌশল নির্ধারণ
- সিএসও, সরকারি ও দাতা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদার
- জাতীয় পর্যায়ে সিএসও উদ্যোগের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি
এই জাতীয় সম্মেলন নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রমাণ করে যে, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে কোনো শিশুকে যেন পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবার ঘাটতির কারণে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন রাইট টু গ্রো কনসোর্টিয়ামের প্রকল্প বিশেষজ্ঞ সজল কোরায়শী। —বিজ্ঞপ্তি










