সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ফিলপস লিমিটেড ‘ব্যাংকার্স মিট ২০২৫’ এর আয়োজন করেছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতারা ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল ব্যাংকিং, সহযোগিতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত ফিউচারিস্ট ব্রেট কিং।

সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও এবি ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভাবন ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকগুলো তুলে ধরা হয়। ফিলপস প্রদর্শন করে তাদের নতুন প্রযুক্তি সমাধান। এর মধ্যে ছিল ডিজিটাল ঋণ প্রদানের প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল গ্রাহক অনবোর্ডিং ব্যবস্থা। এগুলো গ্রাহককেন্দ্রিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা উন্মোচন করে।

ফিলপসের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার তুষার হাসান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা ও তাদের কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে আমাদের সমাধানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফিউচারিস্ট, লেখক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ব্রেট কিং। তিনি দেখান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তি কিভাবে বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতকে বদলে দিচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশ এখনই পুরনো ব্যবস্থা ছাড়িয়ে ভবিষ্যতের ব্যাংক মডেলে যেতে পারে। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থাপন করেন ‘ব্যাংক ৫.০’ ধারণা, যেখানে ডিজিটাল অবকাঠামো, রিয়েল-টাইম গ্রাহক সংযোগ ও গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবন হবে প্রতিযোগিতার মূল শক্তি।

অনুষ্ঠানে ফিলপস সিটি ব্যাংক ও এবি ব্যাংকের সাথে নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়। সিটি ব্যাংকের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের সিটি টাচ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি নতুন রূপ পাবে। অন্যদিকে, এবি ব্যাংকের সহযোগিতায় চালু হবে ডিজিটাল ন্যানো ঋণ সুবিধা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমরা ফিলপসের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা এমন সময়ে ব্রেট কিং-কে বাংলাদেশে এনেছে, যখন আমাদের খাত বড় পরিবর্তনের খুব কাছাকাছি। ব্যাংকার্স মিট ২০২৫ প্রমাণ করেছে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের দাবি।’

সমাপনী বক্তব্যে ফিলপসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বাস ধাকাল বলেন, ‘ফিলপস উদীয়মান বাজারে বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আমরা দীর্ঘমেয়াদে এখানে থাকতে চাই। ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্পের অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করে আমরা ডিজিটাল রূপান্তর ও গ্রাহককেন্দ্রিক উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে চাই।’

—বিজ্ঞপ্তি