দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ। এ বাজারে ভোজ্যতেলের (সয়াবিন তেল) দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে ৮০ টাকা তেলের দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম কমায় এবং বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় পণ্যটির দাম কমে এসেছে। দাম আরো কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেল মণপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬০ টাকায়, যা কেজিতে বেচাকেনা হচ্ছে ১২৯ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও বাজারে বেচাকেনা হয়েছিল মণপ্রতি ৫ হাজার ২৪০ টাকায়। সে হিসাবে মণপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৮০ টাকা।
নিতাইগঞ্জের তেল ব্যবসায়ী গোপীনাথ ভাণ্ডারের মালিক দিলীপ সাহা জানান, ঈদের সময় সয়াবিন তেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দামও বেশ বেড়েছিল। চাহিদা ও দাম বাড়ায় সে সময় ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে কেজিতে ১৩৫-১৩৭ টাকায় পৌঁছে। তবে ঈদের পর থেকে সয়াবিনের চাহিদা কমতে থাকে। দেশের বাজারে কমে যায় তেলের দাম। মিল মালিকরা দাম কমিয়ে বাজারে সরবরাহ করতে থাকেন।
নিতাইগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদ জানান, রোজার সময় সয়াবিনের দাম নানা কারণে বেড়েছিল। মিল থেকে পণ্য সরবরাহে জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দরবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। দাম বাড়ায় মানুষ বেশি পরিমাণে সয়াবিন তেল কিনতে থাকে। ফলে বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমছে। কিন্তু এখন আগের মতো ক্রেতা নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে থেকে পাঁচ মণ সয়াবিন তেলও বিক্রি করতে পারিনি।
নগরীর কালির বাজারের ব্যবসায়ী আবু কাসেম বলেন, সয়াবিন তেলের দাম এক সপ্তাহ ধরে কমছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরো কমে আসবে। এবার যেভাবে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে তা খুবই অস্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাত তুলে মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলে মোটা অংকের মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে এটা ঠিক, কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই তেলের দাম বাড়িয়ে দেন। সরকারি মনিটরিংয়ের অভাবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।










