দীর্ঘ আট বছর পর যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রশাসকের মেয়াদ আরো চার মাস বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য বলা হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তরফদার সোহেল রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করছেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান।

পত্রে বলা হয়, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসকের মেয়াদ পত্র জারির তারিখ ৩ অক্টোবর থেকে চার মাস শর্তসাপেক্ষে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। শর্তে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠনের বিধিমালা ১৯৯৪ এর ১৪ নং বিধি অনুযায়ী, ৯০ দিন আগে পরিচালনা পর্ষদ তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ড গঠন করবে। একইভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট হবে আপিল বোর্ড।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচন হচ্ছে না। ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল চেম্বারটির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জেলা বিএনপির তত্কালীন যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন প্যানেল বিজয়ী হয়। পরের মেয়াদে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ওই বছরের ১২ জুলাই ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন ভেস্তে যায়। ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর তত্কালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন। তিনি ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে দুই দফায় তফসিল ঘোষণা করলেও মামলার কারণে নির্বাচন ভেস্তে যায়। ২০১৫ সালের ১৬ মে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান করে তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যবসায়ীদের একাংশ মামলা করেন। এতে ভোটের আগের দিন নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর আবারো যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এটিএম গোলাম মাহবুবকে চেয়ারম্যান করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে নির্বাচনও হয়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বদলি হওয়ায় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রশাসকের দায়িত্ব নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসাদুল হক। তিনিও বদলি হয়ে গিয়েছেন। এখন দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান। প্রশাসক হিসেবে তার মেয়াদ বাড়ানো হলো।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব কাজ করা হবে। আমরা তাদের চিঠি পেয়েছি। শিগগিরই নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, তুচ্ছ কারণে দীর্ঘ আট বছর চেম্বারে কোনো নির্বাচন হয়নি। অবশেষে মন্ত্রণালয় নির্বাচন করার জন্য বলেছে। আমরা চাই চেম্বারে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা।