ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে বাবা-মায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পাবনায় জন্ম নেয়া যমজ সন্তানের মধ্যে বড় ছিল চারুমতি। জন্মের সময় তার যমজ ভাই মারা যায়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় চারুমতিকে ল্যাবএইড হাসপাতালের নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে নবজাতক বিশেষজ্ঞ, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দলের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন নিবিড় চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সময় চারুমতির ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬০ গ্রাম।

চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতেও তার নিয়মিত ফলোআপ ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। চারুমতি ল্যাবএইড হাসপাতালের ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) ইউনিটে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী প্রথম শিশু। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ পদ্ধতিতে মা ও শিশুর ত্বকের সংস্পর্শ, মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা এবং নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরিণত ও কম ওজনের নবজাতকের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করা হয়। গবেষণায় এ পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

চারুমতির হাসপাতাল ত্যাগ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ল্যাবএইড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমদ দাউদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আজমেরী সুলতানা চৌধুরী এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মরিয়ম ফারুকী (স্বাতী)। এ সময় হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, নার্স ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয় এবং হাসপাতালের পক্ষ থেকে চারুমতির বাবা-মায়ের হাতে একটি বিশেষ উপহার তুলে দেয়া হয়। তারা সন্তানের চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।