ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং নানা পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বায়োটেক ইলেকট্রনিক্স, এআই অ্যান্ড রোবটিকস’ (বিইএআর) সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ২০২৫।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ইডিজিই প্রকল্পের সহায়তায় এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আধুনিক সরকার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, একাডেমিয়া এবং প্রবাসী মেধাবীদের অংশগ্রহণ লক্ষণীয় ছিল।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘টেকসই সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গঠনে ইন্টারঅপারেবিলিটি, সাইবার নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশকে নিজের ফাউন্ডেশনাল টেকনোলজি, বাংলাভাষাভিত্তিক এলএলএম ও বিশ্বস্ত সেমিকন্ডাক্টর অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মুহাম্মাদ মোস্তাফা হুসেইন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সাহসী ও দৃঢ় মানসিকতার দেশ, যারা স্থানীয় মেধাকে বিকশিত করে, বৈশ্বিক সহায়তা গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিতে পারে। এই সম্মেলন শুধুমাত্র একটি আধুনিক মেলা নয়—এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর জাতীয় অগ্রযাত্রার সূচনা, যা আগামী দিনের জ্ঞাননির্ভর, উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গঠনের ভিত তৈরি করবে।’

১৬ ও ১৭ জুলাই আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল স্টেডিয়াম অব টেকনোলজি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নেন দেশ-বিদেশের প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান MediaTek, SK Hynix, SanDisk, GlobalFoundries, Tokyo Electronics, Innovex-এর শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশী বিজ্ঞানী, একাডেমিয়া ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সামিটে অনুষ্ঠিত হয় প্রায় ১০টি অধিবেশন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: এআই ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট, এআই প্রোডাক্টস, এথিকস অ্যান্ড রেগুলেশনস, এআই ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্টার্টআপস, সাইবার সিকিউরিটি (কনভেনশনাল অ্যান্ড এআই এনহ্যান্সড, রোবটিকস ফর হেলথকেয়ার, রোবোটিকস ফর প্রোডাক্টিভিটি, লেবার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ অ্যান্ড ৫.০, এনআরবিস ইন গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম, সেমিকন্ডাক্টর ট্যালেন্ট পাইপলাইন ও লোকাল সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি রোডম্যাপ।

এছাড়া সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে, যা আগত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রশংসা অর্জন করে।

‘Bangladesh as a Nation of Innovation’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত মেধা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা। Biotech, Electronics, AI ও Robotics-এর ক্ষেত্রে গভীর প্রযুক্তিনির্ভর সংযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করাই ছিল এই আধুনিক আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। —বিজ্ঞপ্তি