দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে চিনির দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনির দাম ১০০ টাকা কমেছে। কেজিতে দাম কমেছে ২-৪ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় চিনি সরবরাহ বেশি রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির কাঁচামালের দাম কমেছে। মূলত এসব কারণেই দেশের বাজারে পণ্যটির দাম কমেছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি।
নিতাইগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে ৬৬ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে ঈদের আগে পণ্যটি বিক্রি হয়েছিল ৬৮-৭০ টাকা কেজি দরে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদের সময় ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবেই দাম বাড়িয়ে দেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির কাঁচামালের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিল গেটে চিনির দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এ কাজ করেন। তবে বর্তমানে কাঁচামালের দাম কম থাকায় দেশের বাজারে পণ্যটির দামও কম।
চিনি ব্যবসায়ী গোপীনাথ ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী দিলীপ সাহা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির কাঁচামালের দাম কমে এসেছে। এছাড়া দেশের বাজারে চানির চাহিদাও কমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে চিনির দাম কমতির দিকে। রোজা ও ঈদের সময় বাজারে চিনির চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির কাঁচামালের দাম ছিল বেশি। ফলে ওই সময় পণ্যটির বাজারদর ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান মিয়া জানান, নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা মিল থেকে পণ্য কিনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। এখানকার ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা লাভে বেচাকেনা করে থাকে।
কালির বাজারের ব্যবসায়ী গাঙ্গুলী দাস জানান, প্রতি বছরই রোজার আগে থেকে চিনির দাম বাড়তে থাকে। এটি মিল মালিকদের নতুন একটি কৌশল।
এদিকে বর্তমানে পাইকারি বাজারে চিনির দাম কমলেও খুচরা বাজারে চিনির দাম তেমন কমেনি। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়।
দ্বিগুবাবু বাজারের শিশির স্টোরের মালিক বলেন, পাইকারি বাজার থেকে এক বস্তা চিনি নিয়ে এসে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যয় থাকায় পাইকারি বাজার থেকে কিছুটা বেশি দামে চিনি বেচাকেনা করতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে এখনো দাম কমেনি।










