মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকদিন ধরে ধুঁকছে। সুদহার বৃদ্ধিসহ নীতিনির্ধারকরা একাধিক পদক্ষেপ নিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। কিন্তু এ টানাপড়েন ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসা, সবক্ষেত্র প্রভাবিত হচ্ছে। দেশটির তৃণমূল পর্যায়ে খামার ও কৃষি পড়েছে জটিলতায়। এ কারণে নতুন প্রজন্মের কৃষকরা পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। খবর ফক্স নিউজ।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ছোট খামারগুলো সমস্যায় পড়েছে। খামার মালিকরা জানান, মূল্যস্ফীতি তাদের মুনাফা খেয়ে ফেলছে। এভাবে চললে পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে খামার চালিয়ে নেয়া সহজ হবে না। অচিরেই বন্ধ করে দিতে হবে।

মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের অ্যান্ড্রু বোয়ার্ডিং তার পরিবারে ষষ্ঠ প্রজন্মের কৃষক। তিনি বলেন, ‘আমিই হয়তো সে প্রজন্ম যাদের হাতে থেকে খামার ব্যবসা ছিটকে পড়বে। এটা শুধু আমার দোষ নয়। বরং চারপাশের পৃথিবী হয়তো এতটাই বদলে যেতে পারে যে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমি ব্যবসা ধরে রাখতে পারব না।’

অ্যান্ড্রু জানান, সবকিছুরই দাম বেড়ে গেছে। এখন ক্রমবর্ধমান ব্যয় কৃষিকাজকে আগের তুলনায় অনেক দামি করে তোলে। যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাবা জিমের সঙ্গে মিলে খামার পরিচালনা করেন অ্যান্ড্রু। জিম বলেন, ‘আমার বাবা প্রায় ২০ বছর আগে এ পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন। উনি যখন কৃষিতে ছিলেন তখনকার খরচের সঙ্গে এখনকার কোনো জিনিসের দাম তিনি মেলাতে পারেন না।’

জিম বোয়ার্ডিংয়ের মতে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া মানে লাভও অনেক কমে যাওয়া।

তিনি বলেন, ‘‌কৃষির খরচ এখন হাস্যকরভাবে বেড়েছে। জ্বালানি ও যন্ত্রপাতি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু শস্যের দাম বাড়লে তা পুষিয়ে নেয়া যায়।’

এদিকে আনুষঙ্গিক খরচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খামারের জমির দামও বেড়েছে। ২০২৩ সালে একরপ্রতি গড় মূল্য ছিল ৪ হাজার ৮০ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে একরপ্রতি ২৮০ ডলার বেশি। এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে খামারের সম্প্রসারণও কঠিন হয়েছে বলে জানান মিসৌরি ফার্ম ব্যুরোর প্রেসিডেন্ট গ্যারেট হকিন্স। তিনি আরো জানান, প্রতি একর জমির নতুন মালিকানার জন্যও প্রতিযোগিতায় নামতে হয়।

এসব সমস্যা ছোট পারিবারিক খামারগুলোকে চাপে ফেলেছে বলে জানান গ্যারেট হকিন্স। শুধু ২০২৩ সালেই মিসৌরি হারিয়েছে তিন শতাধিক খামার। তিনি বলেন, ‘এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক খামারের সংখ্যা ৭ শতাংশ কমে গেছে।’

মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য কারণে পারিবারিক খামার ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। গ্যারেট হকিন্স বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে একজন নতুন কৃষক হিসেবে মাঠে নামা আরো যে কঠিন হবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

অবশ্য পরিস্থিতি বদলে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান গ্যারেট হকিন্স। তিনি জানান, মিসৌরিতে নতুন একটি আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা জমির জন্য প্রণোদনা পাবেন। এর মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া খামারের শূন্যতা পূরণ হতে পারে।

অ্যান্ড্রু বোয়ার্ডিংয়ের মতো অনেক কৃষক সাম্প্রতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও খামার ব্যবসা ছাড়তে চান না। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে কৃষি তুলে দিতে চান তারা। অ্যান্ড্রু বলেন, ‘বাবার সঙ্গে খামারে কাজ করে আমি বেড়ে উঠেছি। আশা করি আমার সন্তানরা একই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করবে।’