সত্তর দশকের অভিজ্ঞতা থেকে ওপেক দেশগুলো বুঝেছে যে তেলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল হয়, চাহিদা কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তেলের দামও পড়ে যায়। তাই সৌদি আরবসহ কয়েকটি বড় উৎপাদক দেশ প্রয়োজনে সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে। একই সময়ে জ্বালানি দক্ষতা বেড়েছে, নতুন নতুন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে, বিভিন্ন দেশ কৌশলগত তেল মজুদ গড়ে তুলেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আগের তুলনায় তেলের ওপর অনেক কম নির্ভরশীল।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিনিয়োগের বিস্তার। এ প্রযুক্তিগত রূপান্তর উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। ফলে তেলের দাম বেড়েও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই। তবে ভূরাজনৈতিক সংঘাত যদি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনীতি আবারো উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির দ্বৈত সংকটে পড়তে পারে।
নুরিয়েল রুবিনি: নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের ইমেরিটাস অধ্যাপক









