মো. সাইমুম রেজা তালুকদার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) হিসেবে আছেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন। নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সোশ্যাল ইনোভেশন ইন ডিজিটাল কনটেক্সটের ওপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমাও অর্জন করেন। ‘সোশ্যাল মিডিয়া রেগুলেশন অ্যান্ড রুল অব ল’ নামে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে কাজ করেছেন তিনি। এ প্রতিবেদনসহ সোশ্যাল মিডিয়াসংক্রান্ত আইনি নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

সম্প্রতি আপনারা ‘সোশ্যাল মিডিয়া রেগুলেশন অ্যান্ড রুল অব ল’ নামের একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। যেখানে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভারত নিয়ে আপনারা গবেষণা করেছেন। এ রিপোর্ট নিয়ে যদি সংক্ষেপে কিছু বলতেন।

রিপোর্টটা আসলে একটা গবেষণা প্রতিবেদন। এর শিরোনাম ‘সোশ্যাল মিডিয়া রেগুলেশন অ্যান্ড রুল অব ল: ট্রেন্ডস ইন শ্রীলংকা, ইন্ডিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ’। মূলত বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভারতের যেসব আইন সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট রেগুলেশনের জন্য প্রণীত, অথবা এ-সংক্রান্ত যত রকম আইন ও নীতিমালা রয়েছে সেসবের একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা করেছি আমরা। জাতিসংঘের রুল অব ল ধারণায় নয়টি পয়েন্ট রয়েছে। এ পয়েন্টগুলোর আলোকে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভারতের বিদ্যমান আইনগুলো সাইবার স্পেসে, বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ায় আইনের শাসন অনুসরণ করছে কিনা বা সেগুলো আইনের শাসন মেনে চলে কিনা তা মূল্যায়ন করাই এ গবেষণার উদ্দেশ্য।

আইনসংক্রান্ত বিষয়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তুলনা করলে শ্রীলংকা, ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে কি কোনো পার্থক্য আছে, নাকি চ্যালেঞ্জগুলো একই? আপনার গবেষণায় এ তিন দেশ কেন নির্বাচন করলেন?

আমরা কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য পেয়েছি। যেমন তিনটি সাদৃশ্য আমরা তিনটি দেশেই পেয়েছি।

প্রথমত, নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ভারত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে খুবই চিন্তিত। এলটিটিইর সংঘর্ষের যুগে রাষ্ট্র সংস্কারের দিকে এগিয়েছিল শ্রীলংকা। ফলে তাদের আইনগুলোও সিকিউরিটি-ওরিয়েন্টেড। বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটি এবং অ্যান্টিটেরোরিজম আইনের ওপর ভিত্তি করে সাইবার স্পেসের আইনগুলো তৈরি করা হচ্ছে। তবে সাইবার সিকিউরিটি বলতে শুধু টেরোরিজম বা নিরাপত্তার বিষয় বোঝায় না। সাইবার সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রির একটি নিজস্ব কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং প্রতিদিন কীভাবে থ্রেট রিকগনিশন (হুমকি চিহ্নিতকরণ) ও তা প্রশমন করা হবে তা অন্তর্ভুক্ত। সেটার আলোকে কিন্তু আইনগুলো পুরোপুরি সাজানো হচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত, ক্রমাগত নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ ও শ্রীলংকায় যথাক্রমে বিটিআরসি ও প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়ে মৌলিক অধিকার খর্ব করা সম্ভব। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কনটেন্ট টেক ডাউন করা হয়।

তৃতীয়ত, আমি হোয়াইটলিস্টিংয়ের চেয়ে ব্ল্যাকলিস্টিং বেশি দেখতে পাচ্ছি। ব্ল্যাকলিস্টিং মানে সাধারণভাবে সরকার সবাইকে ব্ল্যাকলিস্ট করে রাখবে। এরপর যারা সরকারের আস্থাভাজন, সেই ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট প্লাটফর্মগুলোকে হোয়াইটলিস্ট করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, এ তিন সাদৃশ্য আমরা তিনটা দেশেই পেয়েছি।

এছাড়া কিছু বৈসাদৃশ্যও রয়েছে। যেমন ভারতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নির্বাহী সিদ্ধান্তের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। শ্রীলংকায় দেখেছি, এটা প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ, অগণতান্ত্রিক ও ধোঁয়াশাপূর্ণ। কখনো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইনের খসড়া করা হতো, কখনোবা আইনের খসড়া জনগণের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ব্যতিরেকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে পর্যাপ্ত আলোচনা-পর্যালোচনা ছাড়াই আইন পাস হয়ে যেত।

আমাদের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (DSA) ছিল, পরে সেটাকে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট (CSA) করা হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে বলা হলো যে এটা বাতিল করা হবে। এরই মধ্যে ১০০ দিন পেরিয়ে গেল। বিষয়টি আপনারা কীভাবে দেখছেন?

আমরা এরই মধ্যে দেখেছি যে সাইবার সুরক্ষা নামক একটি নতুন আইনের খসড়া করা হয়ে গেছে। আমরা সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে বলে এসেছি যে একটি নতুন ড্রাফট করা হোক যেটা সিকিউরিটি দৃষ্টিকোণ থেকে যেন না হয়। আইনের নতুন খসড়ায় যদি আমরা জনগণের অধিকারকে প্রাধান্য না দিয়ে সিকিউরিটি দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আবার নতুন খসড়া করে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট (CSA) বাতিল করে দিই, তাহলে এটি আবার একটি নতুন জটিলতা সৃষ্টি করবে। আমি মনে করি, এখানে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া জরুরি। কারণ আইন ড্রাফট করা কিন্তু সহজ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি কারেক্টিভ প্রসেস। স্টেকহোল্ডারদের (অংশিজনদের) সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করে এবং তাদের মতামতগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তারপর আইনটি তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। আমার মনে হয়, এখানে তাড়াহুড়া না করাই ভালো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা দেখি যে ভারত আমাদের নিয়ে নানাভাবে মিসইনফরমেশন ছড়াচ্ছে। সরকার এ মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন বা প্রোপাগান্ডা কীভাবে মোকাবেলা করতে পারে?

এখানে বিষয়টা খুবই সহজ। প্রথমত, এখানে নৈতিক কিছু বিষয় আছে। যেমন ধরুন সাংবাদিকতার একটি নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালার আলোকে অফলাইনে, অনলাইনে, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা প্রিন্ট মিডিয়ায় সাংবাদিকতা করা হচ্ছে। সাইবার স্পেসের ক্ষেত্রেও আসলে এ ধরনের একটি নীতিমালা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের কথা যখন বলা হচ্ছে তখন বলতে হবে, এখানে মূলত সত্য যেটা সেটাই উপস্থাপন করা উচিত। এখানে তথ্যের কোনো বিকৃতি করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, এটি যতটুকু না আইনের বিষয়, তার চেয়ে বেশি পররাষ্ট্রনীতির বিষয়। কারণ যখন একটি রাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থা অন্য রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়ায়, তখন সে রাষ্ট্রের সরকারের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। যেহেতু আমরা প্রতিবেশী দেশ, সেহেতু প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। আমরা এখানে ভারত সরকারের একটি দায়িত্বশীল আচরণ আশা করছি।

আমরা এটাও স্বীকার করি যে ভারতের সিভিল সোসাইটির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু সেটি এমনভাবে হওয়া উচিত নয়, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি এক ধরনের দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সে স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্যও যে নীতিমালা, সেগুলোর প্রতি ভারতের সরকার, জনগণ ও সিভিল সোসাইটির শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।

সুতরাং আমি মনে করি, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবেলার বিষয়টি শুধু আইননির্ভর নয়, বরং এটি একটি পররাষ্ট্রনীতির অংশ। ভারত যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের একটি সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তার খাতিরে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এক ধরনের মেকানিজম তৈরি করতে চায়, তাহলে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশবিরোধী, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারবিরোধী যে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনগুলো ভারত থেকে আসছে, সেগুলো রুখে দিতে ভারত সরকারের আমাদের সরকারকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করা উচিত।

তথ্যের অবাধ প্রবাহে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। তবে একই সঙ্গে তারা ভুয়া খবর প্রচারের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের প্লাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর রেগুলেশন রয়েছে। আমাদের দেশ কী বিষয়ে পিছিয়ে? আপনাদের গবেষণায় আলোচ্য দেশগুলো কীভাবে এ নিয়ে কাজ করছে?

আসলে টেক প্লাটফর্মগুলো এতটাই শক্তিশালী যে তারা প্রতি বছর কোনো কোনো দেশের মোট জিডিপির তুলনায় বেশি রাজস্ব আয় করে। তারা এক ধরনের সুপ্রা-ন্যাশনাল অথরিটি হয়ে উঠেছে, যা বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। দুঃখজনকভাবে এ প্লাটফর্মগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত এখতিয়ার বা লিগ্যাল জুরিসডিকশনের আওতায় পড়ে না। বরং এ কোম্পানিগুলো সাধারণত সে দেশগুলোর মালিকানাধীন, যারা আন্তর্জাতিক সুপার পাওয়ার হিসেবে স্বীকৃত। দিন শেষে এটি একটি উদ্বেগের বিষয়।

মিসইনফরমেশন, ফেক নিউজ কিংবা হেট স্পিচের মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে মানুষ যত বেশি যুক্ত হবে, এ প্লাটফর্মগুলোর রাজস্বও তত বাড়বে। আর সেই রাজস্বের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে। ফলে এখানে তাদের একটি অর্থনৈতিক স্বার্থ তৈরি হয়েছে।

এক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি? এককভাবে বাংলাদেশ হয়তো এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে না। ভারত, শ্রীলংকা বা পাকিস্তানও একলা মোকাবেলা করতে পারবে না। তবে আমরা যদি অঞ্চলভিত্তিক এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারি, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে যদি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলে ভুয়া তথ্য, মিথ্যা প্রচার বা ঘৃণামূলক বক্তব্য বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে বা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে। এ অঞ্চলে প্লাটফর্মগুলোর গ্রাহক সংখ্যা বিলিয়নের ওপর। যদি এ দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, তাহলে ব্যবসায়িক স্বার্থে হলেও এ প্লাটফর্মগুলো আমাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে। এ কারণেই বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকাকে নিয়ে করা আমাদের গবেষণায় আমরা ভবিষ্যতে কীভাবে আঞ্চলিকভাবে এ-সংক্রান্ত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

আপনাদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জনসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটির বেশি। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনাদের তৈরি করা রিপোর্ট কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন? অনলাইন দুনিয়ায় ভুয়া তথ্য ও ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধের চলমান লড়াইয়ে এ রিপোর্ট কতটা প্রভাব ফেলবে?

আমরা অবশ্যই আশাবাদী। কারণ এ ধরনের গবেষণা এ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো পরিচালিত হয়েছে। কনরাড-আডেনাওয়ার-স্টিফটাং (KAS) নামে একটি জার্মান রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন আমাদের এ গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। গবেষণাটি বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ভারতের ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি দিল্লি ও শ্রীলংকার লার্ন এশিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

যখন এ ধরনের গবেষণা প্রকাশিত হয় তখন আমাদের ভবিষ্যতের কাজগুলো কিন্তু আরো এগিয়ে যায়। এ গবেষণার মাধ্যমে সরকারি ও সিভিল সোসাইটি পর্যায়ে নতুন চিন্তার সূচনা হতে পারে। পাশাপাশি যারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী, তাদের মধ্যেও এটি নিয়ে নতুন ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়। এর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরো গবেষণা ও নীতিমালা তৈরির কাজ কিন্তু চলমান থাকবে।

যখন হাতে কোনো তথ্য বা ডাটা থাকে না তখন কিছু একটা অর্থাৎ একটি গবেষণাপত্র দিয়ে কাজ শুরু করা যায়। যেটি ভবিষ্যতে একটি পলিসি তৈরি করতে সহায়ক হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে এটি কার্যকর হবে কিনা তা রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একবার যদি পলিসি ডায়ালগ, পলিসি অ্যাডভোকেসি বা রিসার্চ অথবা একটা ফাইন্ডিংস তৈরি হয়ে যায়, তবে সেটি দীর্ঘ সময় পরে হলেও একটি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলে। সরকারি পর্যায়ে সেটা প্রতিফলিত হয়।