অর্থনীতিতে অব্যবহৃত সক্ষমতা থাকলে এবং মূল্যস্ফীতি কম থাকলে সীমিত মুদ্রা সহায়তা উৎপাদন স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন সাময়িক সহায়তা কর সংস্কার, ব্যয় শৃঙ্খলা, ব্যাংকিং সংস্কার এবং বিশ্বাসযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের জন্য নীতি-শিক্ষা স্পষ্ট। বাজেটের নিয়মিত অর্থায়নের যন্ত্র হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে হবে প্রধানত উন্নত রাজস্ব সংগ্রহ, যুক্তিসংগত ব্যয়, উন্নত প্রকল্প বাছাই এবং স্বচ্ছ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে। কর অব্যাহতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা দরকার। অপচয়মূলক ভর্তুকি ও নিম্ন অগ্রাধিকারের উন্নয়ন প্রকল্প যাচাই করা দরকার। সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরো বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে হবে। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা। কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বাজেট ঘাটতি মুদ্রায়ন করতে বাধ্য হয়, তাহলে সে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মুদ্রানীতি তখনই কার্যকর হয়, যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার মূল্য রক্ষা করবে।

এম কবির হাসান: নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্সের অধ্যাপক ও মফেট চেয়ার; এএওআইএফআইয়ের নৈতিকতা ও গভর্ন্যান্স বোর্ডের সদস্য