ডা. এজেডএম জাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিবের দায়িত্ব একাধিকবার পালন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সংকট, এ খাতে আগামী দিনের পরিকল্পনা এবং বিগত সরকারের সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা মাহজাবিন
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যাত্রাটি কীভাবে শুরু হয়? এখন কোথায় আছি?
পূর্ব পাকিস্তান আমলে শুরু হওয়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের পথচলা শুরু। স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১৭ কোটি। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার কতটুকু অর্জন হয়েছে? স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এখনো জিডিপির ১ শতাংশের কম। অথচ উন্নত দেশে সেটি জিডিপির ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে হলে যে পরিমাণ দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা ও অর্থ বিনিয়োগের দরকার ছিল নানা কারণে সেটি অতীতের সরকারগুলো প্রয়োজনমাফিক করেনি। সেজন্য মানুষের চাহিদা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরিখে তুলনা করলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকের যে অগ্রগতি হয়নি সেটি সঠিক নয়। স্বাস্থ্য খাতের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ‘খুব খারাপ’—কথাটি সঠিক নয়। যদিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছতে পারিনি।
দেশে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে রোগী দেখার অনুপাতের পার্থক্য অনেক বেশি। ১৯৮৪ সালে আমি মাসে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ রোগী দেখেছি। শুধু একদিনেই দেড়শ-আড়াইশ রোগী একজন ডাক্তারকেই দেখতে হয়, তাহলে এক রোগী কতক্ষণ করে সময় পাবে? ওই সময় ইউনিয়ন সাব সেন্টারে ছিলাম যেখানে আমার চারপাশে রোগী দাঁড়িয়ে থাকত আর শুনে শুনে ওষুধ দিতে হতো। তাই রোগীর ঘনত্ব ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করেই এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা দিতে না পারার যে ব্যর্থতা সেটিতে ডাক্তার কতটুকু দায়ী, সিস্টেম কতটুকু দায়ী, দেশ কতটুকু দায়ী—সেগুলো বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে ১৯৭২ সালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যা ছিল তা ক্রমান্বয়ে এগিয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারেনি। তবে ভালো জাতি পাওয়ার জন্য শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সবার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা না করলে আগামী দিনে একটি ভালো জাতি পাওয়া যাবে না।
স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতিগুলো দূর করার জন্য কী ধরনের কাজ করা উচিত?
এখানে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো আমাদের ৩১ দফায় তুলে ধরেছি। যুক্তরাজ্যের এনএইচএসের তথ্য এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের বাস্তবতার নিরিখে আমাদের পরিকল্পনা আমাদের মতো করেই গ্রহণ করতে হবে। অন্যটা কপি (অনুকরণ) করে পদক্ষেপ নেয়া হলে সেটি ব্যর্থ হবে। বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দেব—এমন সস্তা স্লোগান না দিয়ে বরং বলা যায় যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের সব নাগরিক বিনামূল্যে পাবে। কিন্তু তার পরবর্তী সেবাটি তাদের সাধ্যের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করতে পারবে।
একই সঙ্গে দেশে বেসরকারি হাসপাতাল এগোচ্ছে। এখানেও আইন ও নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ এমন হতে হবে যাতে আমাদের মান নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে। এখানে নির্দিষ্ট একটি মান নির্ধারণ করতে হবে। এখানে একটি চেকলিস্ট তৈরি করে সেটি বাস্তবায়ন করলে স্বাস্থ্য খাতে মানুষের অসন্তুষ্টির মাত্রা কমে যাবে। তবে এটি একদিনে সম্ভব নয়। এটি করতে অনেক ধরনের রূপান্তর, অর্থ ও উৎসাহ প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বলতে শুধু ডাক্তার আর রোগীর বিষয় নয়। এটি মাল্টিডিসিপ্লিনারিভাবে কাজ করলে মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যাবে।
আজকে মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে যে গর্ব করে—যেখানে এমডিজি ও এসডিজি অর্জনের কথা বলা যাচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) প্রোগ্রাম চালু করেন। এছাড়া আরো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। ফলে মায়েদের ধনুষ্টংকারে শিশু মৃত্যুহার কমেছে।
খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী তখন তাদের বিনামূল্যে বই দেয়া এবং পড়াশোনার বিনিময়ে খাদ্য ব্যবস্থাটি চালু করেন। এ টেকসই প্রোগ্রামগুলোকে চালু করা উচিত। একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে সেগুলো রাজনৈতিক পক্ষপাতের জায়গা থেকে বাতিল না করে বরং রক্ষণাবেক্ষণ করলে বাংলাদেশ আরেকটু ভালো করত। খালেদা জিয়ার আমলে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যেমন আমাদের ইউনিয়ন ও উপজেলার কাঠামো কেমন হবে, ইউনিয়নের রোগীরা কখন উপজেলায় যাবে, তারপর সেখান থেকে জেলা, রিজিওনাল এবং স্পেশালাইজড হসপিটালে কীভাবে যাবে, অর্থাৎ একটি পরিকল্পিত রেফারেল সিস্টেম তৈরি করা, যা আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে আছে। সরকারি খাতে অবকাঠামো অনেক গড়ে উঠেছে কিন্তু সেগুলোয় সেবা কম।
শিক্ষাসহ সব বিষয়ে শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন হওয়ায় শুধু ডাক্তার কেন; উচ্চশিক্ষিত কেউই এখন গ্রামে যেতে চান না। যদিও আমাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা গ্রামেই। আগে যেমন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা স্কুলের নাম শোনা যেত, এখন কিন্তু শোনা যায় ঢাকার প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় যদি একই মডেলে সবার জন্য সমমানের শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেত তাহলে মানুষ আশ্বস্ত হতো। কিন্তু আমরা সেটি পারিনি। এক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকদেরই দোষ দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা যাবে কি যাবে না সেটি নির্ভর করবে পলিসির ওপর। কেন যাচ্ছে না সেটি চিহ্নিত করতে হবে। অন্য ক্যাডারের যারা আছেন তারা উপজেলা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে স্বাস্থ্যে ইউনিয়ন পর্যন্ত যেতে হয়। অন্য অফিসারদের জন্য আবাসন থেকে শুরু করে সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে। কিন্তু ইউনিয়নে যে ডাক্তার যাবেন, তার বসার জায়গাটিই নেই। একেকটি ইউনিয়নে ২০-৪০ হাজার মানুষের বাস। প্রতিটি ইউনিয়নের নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে কিছু পরিকল্পনা নিতে হবে।
খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন প্রত্যেক ইউনিয়নে যাতে দুজন ডাক্তার থাকতে পারেন, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর থাকাসহ আরো কিছু কাজ করেছিলেন। কিন্তু সেই কর্মসূচি আর এগোয়নি। সব ইউনিয়ন পর্যায়ে এটিকে বাস্তবায়ন করে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রামীণ ভাতা কিংবা এমন কিছু দেয়ার দরকার ছিল। কাজেই একজনকে শিক্ষা দিয়ে তাকে কর্মস্থলে পাঠিয়ে সঠিক সুযোগ যদি না দেয়া হয় তাহলে সেই ব্যক্তিটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হতাশ হয়ে যাবেন। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে সুনির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ছাড়া অন্যগুলোর মান তেমন ভালো নেই।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও মান বাড়াতে পারলে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য মানুষ এমনিতেই কম যাবে। তাই মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে ভালো লোকবল প্রয়োজন। বেসরকারি উদ্যোক্তারা কখনই মানবসম্পদ তৈরি করে না, বরং তারা দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার করতে চায়।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে যে সময় লাগে সেখানে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করতে চায় না। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই মানবসম্পদ তৈরি করে দেয়া। এটি যদি সঠিকভাবে করতে পারে তাহলে দেখা যাবে সরকারি ও বেসরকারি খাত উভয়ের দক্ষতা বাড়বে। এটি করলেই মানুষের আস্থা বাড়বে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় অ্যাক্রেডিটেশন সিস্টেমের অস্তিত্ব নেই। শুনেছি অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল করা হয়েছে। এখানে কারা আছে, তারা কী কাজ করছে আমরা জানি না। দেশের প্রথম সারির কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনালের (জেসিআই) অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে। কিন্তু আমরা তাতে আগ্রহী নই। আমাদের বরং সরকারের একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড সেট করা থাকতে হবে। অ্যাক্রেডিটেশন নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ডগুলো ঠিকভাবে মানা হয়েছে কিনা সেটির অডিট করে, কিন্তু আমরা স্ট্যান্ডার্ডই করতে পারিনি। এটি করলে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন ঘুরে এ কাউন্সিল বলতে পারত যে তিন হাজার ইউনিয়ন পেরেছে, বাকিগুলো পারেনি। তাদেরকে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সেগুলোয় উন্নয়নের কথা বলত।
বাংলাদেশ থেকে প্রচুর রোগী চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যায়। এটি কমাতে আমাদের করণীয় কী?
দেশের মধ্যে যথোপযুক্ত চিকিৎসা পেলে এটি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে, যার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছি। সব সেক্টর মিলে একটি হলিস্টিক এপ্রোচের প্রয়োজন। এছাড়া এখানে বিদেশী বিনিয়োগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি বহুমুখী, সমন্বিত ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস ডেভেলপ না হলে স্বাস্থ্য খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। এখানে কেন বিদেশী বিনিয়োগ হয় না? কারণ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা অনেক জায়গায় ঘোরার কারণে অনেকেরই আগ্রহ থাকে না। এটি ধরে রাখতে হলে আমাদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস তৈরি করতে হবে।
আপনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তার দুঃসময়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সরকারের সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সে সময় কী ঘটেছিল?
ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলখানায় নেয়া হয়। লক্ষ করলে দেখা যাবে, ওই সময় তিনি হেঁটে এজলাসে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় জেলেও তাকে হাঁটিয়ে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সে সময় চলাফেরা করতে তার কোনো সাপোর্ট লাগেনি। কিন্তু ২০২০ সালের ২৫ মার্চ লক্ষ করলে দেখা যাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় যাওয়ার সময় তিনি হুইলচেয়ারের সাহায্য নিচ্ছেন। হাঁটা চলাফেরা করতে পারা মানুষটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল এ সময়ের মধ্যে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হলো।
জেলখানার ভেতর যেকোনো কয়েদির চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। খালেদা জিয়ার সময় যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল রাষ্ট্রের তা কি রাষ্ট্র করেছে? অথবা যে মেডিকেলে রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কোনো সায়েন্টিফিক প্রটোকল মেনে দেয়া হয়নি। লন্ডনের চিকিৎসকরা পরবর্তী সময়ে লিখিতভাবে মতামতে বলেছেন—তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনের কারণ অবহেলা বা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা। তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য অবশ্যই হয়তো-বা রাজনীতি ছিল। এর জন্য তাকে শারীরিকভাবে এমন পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়া এবং তার জীবনকে আশঙ্কাজনক দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলখানায় যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তা তারা করেনি।
কভিড-পরবর্তী জটিলতার জন্য যখন আমরা বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করতাম, অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ড থেকে উঠে চলে যেতে হয়েছে, এ কারণে যে তাদের পক্ষে আর চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। এটির জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি, হুমকি; কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগকে ব্যবহার করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা যখন বলছেন তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে হবে, দেশে হবে না কিন্তু আমরা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে চারবার বিদেশে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই সময় তার যদি চিকিৎসা দেয়া হতো তাহলে আজকের যে শারীরিক জটিলতা তা হয়তো এড়িয়ে যাওয়া যেত।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন? আগামী দিনে তাকে রাজনীতিতে দেখা যাবে কি?
আলহামদুলিল্লাহ। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আছে। তবে আগামী দিনের রাজনীতিতে তাকে দেখা যাবে কিনা এটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও বয়োজ্যেষ্ঠ। তাকে দেশের মানুষ কীভাবে দেখতে চায় বা কী অবস্থায় থাকবে—সবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঠিক করে দেবেন। বিএনপি অত্যন্ত বাস্তববাদী একটি দল। সার্বিক অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করে ওই মুহূর্তের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য—সেটিই বিএনপির নেতৃত্ব করবে।
বর্তমান রাজনীতি নিয়ে কী দেখছেন?
বিদ্যমান রাজনীতি নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। উপদেষ্টা মহোদয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই মধ্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী একটি রোডম্যাপ দিয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী আশাবাদী। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটি সার্থক হবে। বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং জনগণের ওপর আস্থা আছে। ফলে শেষ বিচারে জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই বিএনপি মাথা পেতে নেবে।










