আমার উদ্বেগ মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঘিরে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা জ্বালানির উৎস ও বাণিজ্যপথে বৈচিত্র্য আনতে বাধ্য করবে, তবে সেই পরিবর্তনের জন্য সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সংকট শুধু অপরিশোধিত তেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধিত জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামভিত্তিক কাঁচামালের ঘাটতি সার, প্লাস্টিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামোসহ হাজারো শিল্পকে প্রভাবিত করবে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক সারের দাম ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন কমবে, খাদ্যের দাম বাড়বে এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আশঙ্কা হলো মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং উচ্চ সুদের ধাক্কা থেকে এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে না পারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি আরেকটি বড় সংকটে পরিণত হবে। বৈশ্বিক বৈষম্য যত বাড়বে, তার অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক মূল্যও তত বাড়বে। আর্থিক বাজার হয়তো আপাতত এ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

জয়তী ঘোষ: ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক

প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক নিবন্ধে