ড. রুশিদান ইসলাম রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক। তিনি ১৬ বছর এ পদে কর্মরত ছিলেন। পেশাজীবনের শুরুতে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স, ইংল্যান্ড থেকে এমএ এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তার গবেষণার বিষয় বেকারত্ব ও শ্রমবাজার. দারিদ্র্য, শিক্ষা, শিল্পায়ন, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ইত্যাদি। বাংলাদেশে কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, পোশাক খাত, সামাজিক ব্যবসা মডেলের সম্ভাবনা ইত্যাদি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবরিনা স্বর্ণা

কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের সাম্প্রতিক ধারাটি কেমন? বেকারত্ব নিয়ে বিবিএস যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সেটি নিয়ে অনেকেই দ্বিমত বা সন্দেহ পোষণ করেছেন। এর পরও বিবিএসের পরিসংখ্যানের আলোকেই বর্তমান পরিস্থিতি কতটা গুরুতর বলে মনে হয়?

বিবিএস যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, সে অনুযায়ী আমাদের দেশে বেকারত্বের হার খুব বেশি নয়। এটা সাধারণত সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। এটা অনেক উচ্চ আয়ের দেশ থেকেও কম। সেজন্য অনেকে এ পরিসংখ্যানকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করেন। এটা বিবিএসের পদ্ধতিগত একটি বিষয়। বিবিএস যে সংজ্ঞা ব্যবহার করে বিদ্যমান পরিসংখ্যান তৈরি করেছে, সেই সংজ্ঞাটি আসলে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য ততটা উপযুক্ত নয়। জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘আপনি কি উপার্জনমূলক কাজ করেন?’ উত্তরে ‘না’ বললে, এরপর প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি উপার্জনমূলক কাজ করার জন্য চেষ্টা করছেন বা কাজ খুঁজছেন?’ যদি সেখানে উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলে, তবে তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের দেশে এমন অনেকেই আছেন, যারা চাকরি খুঁজছেন না, কিন্তু সুযোগ পেলে চাকরি করবেন। বিশেষত নারীদের অনেকে আছেন, যারা গৃহকর্মে আছেন, কিন্তু কাজের সুযোগ পেলে কাজে চলে যেতে পারবেন। তরুণদের মধ্যে অনেকেই চাকরি খোঁজার পথ জানেন না, কীভাবে খুঁজতে হয় বা কাকে ধরতে হবে, সে ধাঁধায় আছেন। তারাও এ পরিসংখ্যানে বেকার হিসেবে গণ্য হয় না। আর যারা দিনমজুর বা সপ্তাহে দু-চারদিন কাজ করেন, তাদেরকে কাজে নিয়োজিত আছে বলে ধরা হয়, তাদের বেকার বলা হয় না। এমনকি সপ্তাহে মাত্র ১ ঘণ্টা কাজ করলেও তাকে তখন বেকার হিসেবে বিবেচিত করা হয় না।

কাজেই এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে এটাও দেখতে হবে যে কোনো ব্যক্তি সপ্তাহে কয় ঘণ্টা কাজ করছেন, তার কাজের উৎপাদনশীলতা কেমন, অথবা কাজ করে কী উপার্জন করছেন। আমাদের বেকারত্বের পুরো চিত্রটা বুঝতে বা পুরো সমস্যাটা ধরতে এ বিষয়গুলোও দেখতে হবে। এ কাজ আমাদের গবেষকদের করতে হবে।

এক্ষেত্রে সঠিক চিত্রটি পেতে বিবিএসের বেকারত্বের সংজ্ঞায় কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?

সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয় না, কারণ প্রচলিত সংজ্ঞা আন্তর্জাতিকভাবে তুলনীয় তথ্য দেয়। তবে বর্তমান সংজ্ঞায় যারা বেকার তাদের উন্মুক্ত বেকার বলা যেতে পারে। এ উন্মুক্ত বেকারদের সঙ্গে যোগ করতে হবে যারা কাজ খুঁজছেন না কিন্তু কাজ পেলে তা করবেন।

নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অর ট্রেনিং (এনইইটি), যারা শিক্ষায়ও নেই, কর্মেও নেই, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় তরুণ-তরুণী, তাদেরকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয় পরিসংখ্যানের জন্য। কিন্তু মোট বেকারের হিসাবে তাদের একটি অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। নিষ্ক্রিয় তরুণের সংখ্যা প্রায় ৯৬ লাখ। আমাদের পরিসংখ্যানগুলো সেভাবেই ব্যাখ্যা করা দরকার যাতে প্রকৃত পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

এত বড় জনগোষ্ঠীর নিষ্ক্রিয় থাকার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেশে কর্মসংস্থানের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। আবার কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ার পেছনে ঋণ প্রবৃদ্ধি না হওয়া বা বিনিয়োগ সংকটের কথা বলা হয়, যা সত্যও বটে। তবে এর বাইরে ব্যবসায়ীদের কি কোনো দায় রয়েছে?

আমরা দেখেছি যে কভিডের আগ পর্যন্ত জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো ছিল। তবে সে ভালো প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থান বাড়েনি। বিশেষ করে ২০১২ ও ২০১৯ সালের শিল্প জরিপ থেকে দেখা যায় যে এ সময়ের মধ্যে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল অনেক উঁচু কিন্তু কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ছিল খুবই নগণ্য। শতকরা হিসাবে সেটা ছিল বছরে মাত্র এক ভাগের মতো।

কেন এটা ঘটছে? কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন উদ্যোক্তা কেন তৈরি হচ্ছে না? অথবা ব্যবসাগুলো কেন আরো বড় হচ্ছে না?

এখানে দুটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমত, যে ধরনের বড় উদ্যোগগুলোয় প্রবৃদ্ধি বেশি, সেখানে খুব বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। এর একটি বড় কারণ ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি ঘনত্ব বাড়িয়েছেন। অর্থাৎ তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি বেশি কিনেছেন এবং ব্যবহার করেছেন, ফলে শ্রমের নিয়োগ কমে গেছে। পুঁজি বেশি ব্যবহারের পেছনে একটি কারণ ছিল, সে সময় পুঁজি তুলনামূলকভাবে সস্তা ছিল। কারণ ঋণের ওপর সুদের হার ছিল কম। এটি কৃত্রিমভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছিল, ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ক’দিন আগে সিপিডির এক জরিপে দেখা গেছে যে আমাদের দেশে ব্যবসায় প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। প্রশাসনিক অদক্ষতাও এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। ব্যবসায় এ প্রধান দুই বাধাকে কীভাবে উতরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা যায়?

প্রায় সব জরিপে দেখি প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের মতামত নেয়া হয়। কিন্তু যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন অথচ পারছেন না, তাদের মতামত নেয়া অত্যন্ত জরুরি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির নীতিনির্ধারণে সেটা কাজে লাগবে।

শুধু দুর্নীতির কারণে যে আমাদের এখনকার পরিবেশ ব্যবসাবান্ধব নয়, ব্যাপারটা সে রকম নয়। দুর্নীতি একটা বড় কারণ, তবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চিত্রে শৃঙ্খলার অভাবও একটি বড় কারণ। ধরুন একজন উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন বা করবেন, তার উৎপাদনশীলতা কমবে কেন? কমবে যখন দেখা যাবে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সরবরাহ অপ্রতুল। এ অপ্রতুলতার কারণে তাকে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। অথবা যখন দেখবে অবরোধের কারণে রাস্তা বন্ধ, উৎপাদিত পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতে পারছেন না, তখন সেটি উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করবে। কাজেই সামগ্রিক অর্থে ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করতে সমাজ ও রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই।

দেশের কর্মসংস্থানের বড় একটি খাত পোশাক শিল্প। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিচারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে এ খাতকে কতটা সম্ভাবনাময় মনে হয়?

আমার মনে হয় না এ খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা আর বাড়বে। প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আসছে। সেগুলো ব্যবহারের জন্য যে শ্রমিকরা আছেন, তাদের দক্ষতা ও বেতন বাড়ালে তারা আরো দীর্ঘ সময় চাকরি করতে পারবেন, কিন্তু একটি শিল্পের ওপর নির্ভর না করে আমাদের প্রয়োজন আরো শিল্প গড়ে তোলা, যাতে শ্রমিক নিয়োগ বাড়ানো যায়। যেখানে পুঁজি কম এবং শ্রমিক বেশি দরকার সে রকম শ্রমিকবহুল খাতগুলোকে আমরা কীভাবে উন্নত করতে পারি সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা কতটুকু?

সামাজিক ব্যবসা আমাদের সমাজজীবন, সমাজচেতনা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সামাজিক ব্যবসা শুরু করার কাজ প্রথমে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে প্রথমেই জীবনমান উন্নয়নের জন্য উপার্জন প্রয়োজন। পাশাপাশি সেই আয় থেকে কিছু পুনর্বিনিয়োগ করা দরকার। যদি আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের বলি, তোমরা সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করো, তাহলে সেটা তাদের প্রতি সুবিচার হবে না। সামাজিক ব্যবসা পরিচালনার কাজটি তাদের জন্য উপযুক্ত, যারা এরই মধ্যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে জনহিতকর কাজ করার সামর্থ্য রাখেন।

প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তারা প্রথমে জনহিতকর কাজ করার মনোভাব নিয়ে সামাজিক ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এমন ব্যবসা হতে পারে যেখানে কম পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশি তরুণকে নিয়োজিত করা সম্ভব। যদিও তা দরিদ্রদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য নাও হতে পারে, তবে সেই ব্যবসার লাভ পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে। যদি আমাদের বৃহৎ ও মাঝারি উদ্যোক্তারা একটি বা দুটি করে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং প্রতিটি উদ্যোগে অন্তত ১০০ জন তরুণকে নিয়োগ করেন, তাহলে আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে ছয়-আট লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। এটি তরুণদের জন্য বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। তবে এর জন্য দরকার উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে এবং কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে।

বর্তমানের তরুণদের উদ্যোগী করতে, তাদের কীভাবে তৈরি করা যায়, মানসিকভাবে কীভাবে প্রস্তুত করা যায়?

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে অনেক উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং উদ্যম লক্ষ করেছি। তারা নতুন কিছু তৈরিতে আগ্রহী ও সচেষ্ট। তাদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যেন তারা সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন। আমরা শুধু উদ্যোক্তা নয়, সফল উদ্যোক্তা চাই। তবে উদ্যোক্তা সবাই হতে পারেন না।

একেবারে নতুনদের, যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তাদের জন্য দুটি পথ থাকতে পারে। প্রথমত, তারা অন্য ব্যবসায় বা বেসরকারি খাতে কিছুদিন চাকরির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। নবিশ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রদেরকে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষানবিশ হিসেবে পাঠিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে তারা ব্যবসার প্রকৃত চ্যালেঞ্জগুলো শিখে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন।

প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন—এসব অবশ্যই দরকার। তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উদ্যোক্তাদের একেবারে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে না দিয়ে তাদের জন্য একটি সহায়ক টিম গঠন করা। টিমটি ভ্রাম্যমাণ হতে পারে। তারা টেলিফোনে বা অনলাইনে পরামর্শ দিতে পারেন কিংবা জেলাশহরে গিয়ে কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন। আবার এ সহায়ক টিমের সদস্যদের অত্যন্ত দক্ষ, সংবেদনশীল এবং সদিচ্ছাসম্পন্ন হতে হবে। তাদের মূল লক্ষ্য হবে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন মেটানো এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়া।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অনেক সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে, যা সেই এলাকার তরুণরা জানেন। এসব সম্ভাবনা খুঁজে বের করে তাদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার। তবে এজন্য শুধু অফিসে বসে সুপারিশ তৈরি করলে হবে না। আমাদেরকে তরুণদের কাছে যেতে হবে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। প্রবৃদ্ধি অর্জন, বৈষম্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ সরকারের গঠিত কমিটিগুলোকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। কমিটির সদস্যদের গ্রাম বা উপজেলায় গিয়ে তরুণদের চাহিদা ও সমস্যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এরপর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড কীভাবে করা সম্ভব তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা উচিত।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে বেকারত্ব হার খুব বেশি, তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেকার। কেন? এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে কী করা যায়?

কলেজ শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব হার বেশি, কারণ তারা যে জ্ঞান অর্জন করে, নিয়োগকারীদের কাছে তার চাহিদা নেই। এই ডিগ্রির পড়াশোনা যেহেতু মুখস্থ প্রশ্নোত্তরে সীমিত থাকে, কর্মক্ষেত্রে তা প্রয়োগের সুযোগ নেই। তাদের অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের তুলনায় অনেক কম। আবার এইচএসসি বা এসএসসি সমাপ্তকারীর তুলনায় তারা তেমন কোনো বেশি দক্ষ হয় না। অথচ তাদের বেতনের প্রত্যাশা থাকে বেশি। এই যে চাহিদা ও যোগ্যতার ফারাক, সেটা ঘুচাতে হলে কলেজগুলোর শিক্ষাক্রম, পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি, এগুলো বদলাতে হবে। সেখানে কিছু কারিগরি শিক্ষা, কর্মমুখী দক্ষতা ও নমনীয় দক্ষতা সংযোগ করে কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকদের মধ্যে এমন যোগ্যতা তৈরি করতে হবে যা অন্য তরুণদের নেই। সেই পথে এদের আধুনিক খাতে নিয়োগের পথ খুলবে। এটা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে এবং বিনিয়োগ করতে হবে।