মামুন রশীদ, প্রথিতযশা ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক। প্রায় ৪০ বছর কাজ করেছেন তিনটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোয়। বর্তমানে আর্থিক খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্সের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে কাফকো, এয়ারবাস, বোয়িং, টেলিনর, আজিয়াটা, লাফার্জ, হোলসিম, ম্যারিকো, এইএস, জিই, জেটিআই, আলি পে, ডিবিএস, সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের চ্যালেঞ্জ, কৌশল ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আপনি বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ পরিবেশে এক ধরনের সতর্ক আশাবাদ লক্ষ করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন, নীতি ও প্রশাসনে কতটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে সেটি দেখার জন্য। অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা, কর্মক্ষম জনসংখ্যার উপলব্ধতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন—তিনটি দিক এখনো আমাদের পক্ষে কাজ করছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চাপ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক নীতি পদক্ষেপ, বিশেষত রাজস্ব কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্যোগ, ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। তাই আমি বলব, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এখনো সম্ভাবনাময়। তবে বিনিয়োগের আস্থার পুনর্গঠনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা এখন সবচেয়ে বড় পূর্বশর্ত।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও সুদের হার বৃদ্ধি—এ তিন উপাদান বিনিয়োগপ্রবাহে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?

তিনটি উপাদান বিনিয়োগপ্রবাহের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, উভয়ভাবেই প্রভাব ফেলছে। মুদ্রাস্ফীতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ কিংবা ‘ধীরে চলো’ নীতি পথ অবলম্বন করেন। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর শিল্পগুলো কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যায় পড়ে। ফলে তাদের উৎপাদন চক্র ব্যাহত হয়। আবার সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প অর্থায়নের খরচও বেড়ে গেছে, যা অনেক উদ্যোক্তাকে নতুন বিনিয়োগ থেকে নিরুৎসাহিত করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য প্রধান কাজ হবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি দ্বারা বাজারকে স্থিতিশীল রাখা। তাছাড়া আমি মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া বিনিয়োগের গতি বাড়ানো বেশ কঠিন।

বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের কোন কোন ঝুঁকির কারণে এখনো দ্বিধায় থাকেন? এসব ঝুঁকি নিরসনে সরকার বা নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করছেন?

বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তিন ধরনের ঝুঁকি বিবেচনা করেন। সেগুলো হলো নীতি ঝুঁকি, মুদ্রা ঝুঁকি ও প্রশাসনিক ঝুঁকি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নীতি-অস্থিরতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখনো বড় প্রতিবন্ধক। ব্যবসায়িক আইন ও বিধিমালায় হঠাৎ পরিবর্তন, কিংবা প্রণোদনা কাঠামোর অস্পষ্টতা বিদেশী বিনিয়োগকারীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করে। মুদ্রা ঝুঁকি অর্থাৎ ডলারের অস্থির বিনিময় হারও তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমার মতে, সরকারকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নীতি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকে। যাতে বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারেন, পরবর্তী পাঁচ বছরে নীতিগত পরিবেশ পূর্বানুমানযোগ্য থাকবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বোর্ড ও এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন কর্তৃপক্ষকে আরো সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর করতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগের জন্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সবচেয়ে বড় একটি ব্যাপার হচ্ছে আস্থার ভিত্তি।

আপনি কী মনে করেন—বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতি এখনো বিনিয়োগের বড় বাধা? এর সমাধানে কী ধরনের সংস্কার জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

হ্যাঁ, আমি মনে করি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। একদিকে নীতিনির্ধারকরা বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো তৈরি করছেন। অন্যদিকে বাস্তবায়ন পর্যায়ে অদক্ষতা ও বিলম্ব পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের একাধিক দপ্তরে একই কাগজপত্র জমা দিতে হয়, যা সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ায়। সমাধান হতে পারে—ডিজিটালাইজেশন ও সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের কার্যকর প্রয়োগ। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা সফলভাবে চালু করেছে। যেখানে বিনিয়োগ অনুমোদনের সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে আমলাদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি বাড়ানো দরকার। আমরা যদি একটি পেশাদার ও সময়নির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, তবে বিনিয়োগপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এখন আমাদের নীতির চেয়ে বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ।

শিল্প খাতভিত্তিকভাবে কোন কোন সেক্টর এখন বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বলে আপনি মনে করেন?

বাংলাদেশের সামনে এখন একাধিক সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি আইটি ও সফটওয়্যার রফতানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে আমি বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় সেক্টর বলে মনে করি। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন পুনর্বিন্যাসের ফলে বাংলাদেশে ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল অনুযায়ী কিছু উৎপাদন শিল্প স্থানান্তর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও হাইড্রোজেন-ভিত্তিক শক্তি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্পে আমাদের ভৌগোলিক সুবিধা ও শ্রমবাজারের প্রাচুর্য আছে, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয়। তবে এসব খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল নীতি ও কর-প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—শুধু সস্তা শ্রম নয়, দক্ষতা ও প্রযুক্তিকে মূল শক্তিতে রূপান্তর করা।

বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের কোন নীতি বা উদ্যোগগুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং কোন দিকগুলো এখনো দুর্বল বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি, বিনিয়োগবান্ধব নীতির মধ্যে—বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামো বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলোর মাধ্যমে জমি, অবকাঠামো ও কর সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের ধীরগতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব বড় দুর্বলতা হিসেবে থেকে গেছে। কর নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে পারলে বিনিয়োগকারীর আস্থা আরো বাড়বে। আমার মতে, এখন সময় এসেছে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও দক্ষ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়ার। যাতে বাংলাদেশ শুধু স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনার ওপর নির্ভর না করে, বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে ‘নীতি-স্থিতিশীলতা’ ও ‘রাজনৈতিক আস্থা’ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে আপনি মনে করেন?

বিনিয়োগ হলো আস্থার ওপর নির্ভরশীল এক মানসিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি-স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো বিনিয়োগ পরিবেশ টেকসই হতে পারে না। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রথমেই জানতে চান—দেশের নীতি আগামী পাঁচ বছরে একই থাকবে কিনা বা রাজনৈতিকভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো হঠাৎ বদলে যাবে কিনা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক রূপান্তর বিনিয়োগকারীদের মনে একটি নতুন প্রশ্ন তুলেছে—স্থিতিশীলতা ফিরবে কিনা। যদি সরকার নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোকে পেশাদারভাবে প্রয়োগ করে, তবে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। এটি মনে রাখা জরুরি, রাজনৈতিক আস্থা অর্থনৈতিক আস্থারই ভিত্তি।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা—যেমন ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ কোথায় পিছিয়ে আছে, আর কোন ক্ষেত্রগুলোয় এখনো প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখতে পারছে?

বাংলাদেশ এখনো শ্রম ব্যয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও বাজার সম্ভাবনায় শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তবে আমরা পিছিয়ে আছি অবকাঠামোগত দক্ষতা, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে। ভিয়েতনাম বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতি-স্বচ্ছতা ও দ্রুত অনুমোদনের কারণে বড় সুবিধা দিয়েছে। ভারতের শক্তি তাদের বাজারের আকার এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায়। বাংলাদেশের প্রধান সুবিধা হলো—বৃহৎ তরুণ কর্মশক্তি, রফতানিমুখী খাতের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রীয় অবস্থান। যদি আমরা লজিস্টিকস, বন্দর ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আরো নির্ভরযোগ্য করতে পারি, তবে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারব। প্রতিযোগিতা মানে শুধু কর ছাড় নয়। এর মানে হলো প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতি পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষ জনবল—এ তিনের সমন্বয়।

স্থানীয় উদ্যোক্তা ও এসএমই বিনিয়োগকে সক্রিয় করতে ব্যাংক খাতের সংস্কার বা অর্থায়ন ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন দরকার বলে আপনি মনে করেন?

এসএমই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, কিন্তু অর্থায়নের অপ্রতুলতা ও উচ্চ সুদের হার তাদের জন্য বড় বাধা। ব্যাংকগুলো এখনো বড় করপোরেট ঋণেই বেশি মনোযোগ দেয়। ফলে ছোট উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হন। এখন আমাদের প্রয়োজন একটি ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম’। যেখানে সরকার আংশিক ঝুঁকি নেবে, ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণ দেবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে পেশাদার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। এনপিএল কিংবা নন পারফরমিং লোনের সমস্যা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে নতুন উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত অর্থায়ন পাবেন না। ফিনটেক ও ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতিও এ খাতে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। অর্থনীতির অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যাংক খাতের সংস্কার আর বিলাসিতা নয়। এটি এখন প্রয়োজনীয় বাস্তবতা।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আপনার আশাবাদ কী?

আমি সতর্ক আশাবাদী। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন পুনর্গঠনের পর্যায়ে এবং এই সময়টি সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে আমরা নতুন এক বিনিয়োগ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সংস্কার ও নীতি-ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে। তবে ২০২৬-৩০ সময়কালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। অবকাঠামো, শক্তি ও ডিজিটাল খাতে এরই মধ্যে বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন দরকার কেবল আস্থা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি। আমার বিশ্বাস, আমরা যদি বিনিয়োগকে ‘দ্রুত অনুমোদন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব’ হিসেবে দেখি, তবে আগামী পাঁচ বছর হবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ইতিহাসের সবচেয়ে গঠনমূলক অধ্যায়।