এবারের দাভোসেই যেন উদয় হলো মার্কিন-পরবর্তী এক বিশ্ব ধারণা। এটি আমাদের সময়ের সবচেয়ে নির্মমভাবে সৎ ও সুদূরপ্রসারী বক্তৃতাগুলোর একটি। এক ঐতিহাসিক রূঢ় স্বচ্ছতার মুহূর্তে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে বিশ্বের এলিটদের সামনে দাঁড়িয়ে একটি সমালোচনা নয়, বরং একটি শোকসংবাদ পেশ করলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’কে তিনি চূড়ান্তভাবে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দিলেন। কূটনৈতিক দুনিয়ায় কার্নির এ ভাষণ এক ঐতিহাসিক ভূকম্পনের মতো ঘটনা। এক প্রত্যাখ্যাত মিত্রের শুধু বিলাপ নয়, এটি একটি গভীর কৌশলগত ইশারা—সেই নতুন বিশ্বে চলার পথনির্দেশ, যেখানে নির্ভরযোগ্য রক্ষাকারীদের ভূমিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়িয়েছে বা নিজের মুখোশ খুলে ফেলেছে। এ ভাষণের শক্তি নিহিত এর নির্মম সততার মধ্যে; যা অনেকেই ফিসফিস করে বলেছে, কিন্তু কোনো প্রধান পশ্চিমা নেতা এতটা স্পষ্টভাবে কখনো বলেননি: ধারাবাহিক মার্কিন নেতৃত্বের যুগ শেষ, এবং এর প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করা এক বিপজ্জনক মূর্খতা। কার্নির এ ঘোষণা বিশ্ব আলোচনাকে শুধু রোগনির্ণয় থেকে আহ্বানে নিয়ে গেছে, এ নিষ্ঠুর ধারণার ভিত্তিতে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন কাঠামোগতভাবেই এমন নেতা তৈরি করতে সক্ষম, যারা বহুপক্ষীয়তাবাদ ও গণতান্ত্রিক সংহতির সেই স্তম্ভগুলোকে মৌলিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং সেগুলোর কবর রচনা করতে চায়, যেগুলো একদিন সে নিজেই নির্মাণ করেছিল।

মুদি দোকানের সাইনবোর্ড: এক বৈশ্বিক ছলনার রূপক

কার্নির ভাষণের কেন্দ্রে ছিল চেকোশ্লাভাকিয়ার নাট্যকার, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাকস্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মী ভাকলাভ হ্যাভেলের রচনার এক মর্মস্পর্শী উল্লেখ। হ্যাভেলের ‘দ্য পাওয়ার অব দ্য পাওয়ারলেস’ (শক্তিহীনদের শক্তি) প্রবন্ধের ‘মুদি দোকানের’ উপমাটি কার্নি ব্যবহার করেছেন। সেখানে একজন কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের মুদি দোকানের মালিক প্রচারমুখী একটি স্লোগান নিজের বিশ্বাস থেকে নয়, বরং সামাজিক প্রত্যাশা থেকে দোকানের সাইনবোর্ডে টাঙিয়ে রাখে। এ ক্ষুদ্র আপস একটি এমন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে, যার মিথ্যা হওয়া সবাই জানে। কার্নির প্রতিভা ছিল এ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাবিরোধী সমালোচনাকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার নিজস্ব ভণ্ডামির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করায়।

কার্নি স্বীকার করলেন, কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রগুলো জানত যে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার গল্পটি আংশিকভাবে মিথ্যা এবং সবচেয়ে শক্তিশালীরা যখন সুবিধাজনক হবে, নিজেরাই সেই নিয়ম থেকে অব্যাহতি নেবে।"যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মহাশক্তিগুলো এমন সব নিয়মের পৃষ্ঠপোষকতা করত, যেগুলো তারা নিজেরাই প্রায় বাঁকিয়ে নিত। তবুও এ মিত্রতা টিকে ছিল, কারণ এর সার্বিক সুবিধা—কুক্ষিগত ক্ষমতার লাগাম, অভূতপূর্ব বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এবং মহাশক্তির যুদ্ধ এড়ানো—নৈতিক আপসের বিনিময় করাকেও মূল্যবান মনে হতো। মুদি দোকানের সাইনবোর্ডটি জানালায় টাঙানো থাকত, কারণ এ ছলনা একটি উদ্দেশ্য সাধন করত। কার্নির বিশ্লেষণে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন শুধু সেই সাইনবোর্ডটি ছিঁড়ে ফেলেনি; এটি এর পেছনের দেয়ালটিকেও পচা বাস্তবতা হিসেবে উন্মোচিত করেছে। এখন আর এ ভান টিকিয়ে রাখা যায় না। একজন পশ্চিমমুখী সমাজতান্ত্রিক-বিরোধীর দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে পশ্চিমকেই সমালোচনা করার মাধ্যমে কার্নি যুক্তি দিলেন যে সামনে এগোনোর পথ শুরু হয় ‘সত্যের সঙ্গে বাস করা’র মাধ্যমে—একটি সত্য যা পুরনো ব্যবস্থার মৃত্যুকে স্বীকার করে এবং কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই নতুন কিছু গড়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে মেনে নেয়।

মধ্যশক্তি দেশগুলোর উত্থান ও এক নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা

কার্নির সমাধান সরাসরি তার রোগনির্ণয় থেকে প্রবাহিত হয়। তিনি কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রধান ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মতো মধ্যশক্তি দেশগুলোকে অপেক্ষা করে বা সময়ক্ষেপণ বাদ দিয়ে এখনই অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। তাদেরকে একে অন্যের সঙ্গে এবং বিশ্বব্যাপী বাস্তববাদী অংশীদারদের সঙ্গে নতুন, গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী" উভয়ের কাছ থেকেই আসা অর্থনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের"মোকাবেলা করা যায়। এটি এ ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে অন্যান্য সংশোধনবাদী শক্তির সঙ্গে একই সারিতে দাঁড় করিয়ে জবরদস্তির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা। শুল্ক ও আর্থিক প্রভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা এখন ঐতিহ্যগত আগ্রাসনের মতোই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে বাণিজ্য নীতিই এখন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।

অতএব, প্রতিক্রিয়া হতে হবে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরির। কার্নি মধ্যশক্তিগুলোর একটি অনানুষ্ঠানিক ও নমনীয় (ফ্লেক্সিবল) জোটের ইঙ্গিত দিলেন যা কোনো অনড়, চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং প্রয়োজনে সক্রিয় হওয়া একটি ঐক্য, যা সার্বভৌমত্ব ও মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় নিয়োজিত হবে। এর প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব আছে: আমরা সম্ভবত সমান্তরাল সরবরাহ শৃঙ্খলের ত্বরিত গঠন, মহাশক্তিদের বাদ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং নির্ভরতা কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে যৌথ বিনিয়োগ দেখতে পাব। এ নতুন বাস্তবতায়, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যদ্বাণীযোগ্যতা (প্রেডিকটেবিলিটি) গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রায় পরিণত হবে। কার্নি কানাডাকে একটি আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করলেন—এমন এক বিশ্বে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার, যে বিশ্ব স্থিতিশীল বা নির্ভরযোগ্য নয়—তার দেশকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য ও খণ্ডিত বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি নিয়মভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে স্থাপন করলেন। বৈশ্বিক আর্থিক সম্প্রদায় ও অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্রগুলোর জন্য সংকেতটি স্পষ্ট: পুরনো মহাকর্ষ কেন্দ্রগুলো সরে যাচ্ছে এবং নতুন, অধিকতর নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক আঁকা হচ্ছে।

বিশ্বের ওপর প্রভাব: অস্থির এক অন্তর্বর্তী সময়ের বৈতরণী বাওয়া

এ পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও অশান্তিকর। আমরা প্রবেশ করছি এক অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে—একটি ব্যবস্থার মৃত্যু ও নতুন ব্যবস্থার জন্মের মধ্যকার অস্থির সময়। এ প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক শক্তিগুলো তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রসারিত সুযোগ পাবে যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে, কারণ একক এক মহাশক্তির শাসনামলের নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি এখন লোপ পাচ্ছে। ডব্লিউটিওর মতো বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে, যদি না মধ্যশক্তিগুলো তাদের মধ্যে নতুন শক্তি ও সম্পদ ঢেলে দেয় এবং সম্ভাব্যভাবে বিশৃঙ্খলাকারী মহাশক্তিদের বাদ দিয়ে সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করে। আরো গুরুত্বপূর্ণ, সব ধরনের মৈত্রী চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা এখন ভেঙে পড়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম স্থায়ী মিত্রকেও প্রকাশ্যে তার আনুগত্যের বাইরের জীবন পরিকল্পনা করতে হয়, তবে কোনো নিরাপত্তা গ্যারান্টিই আর পবিত্র নয়। এতে সারা বিশ্বে আতঙ্কময় পুনর্মূল্যায়ন শুরু হবে, যা জাতীয় অস্ত্রসজ্জা বৃদ্ধি ও বিকল্প অংশীদারত্বের জন্য হিমশিম খাওয়ার কারণ হবে। এ নিরাপত্তা পরিবর্তনের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই; কারণ প্রতিরক্ষা ব্যয় ও শিল্পনীতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে আরো বেশি সংযুক্ত হয়ে যাবে।

উদীয়মান জাতির জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের প্রেক্ষিত

বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য কার্নির নতুন বিশ্ব একদিকে তীব্র ঝুঁকির, অন্যদিকে সম্ভাবনার এক ল্যান্ডস্কেপ। ঝুঁকিটি সরলরৈখিক: তারা এখন এক বহুমেরুকেন্দ্রিক সংঘাতের মধ্যে পড়েছে, যেখানে একক কোনো মহাশক্তির রক্ষাকবচের আপেক্ষিক ভবিষ্যদ্বাণীযোগ্যতা আর নেই। সেই রক্ষাকবচ হারানোর প্রভাব গভীর; মার্কিন নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার সঙ্গে একাত্মতা একসময় আঞ্চলিক দানবীয় শক্তির জবরদস্তি থেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিত অথবা দেশ হিসেবে আমরা সেই ভূরাজনীতির সমীকরণ নিয়ে ভাবতাম, আশার জাল বুনতাম। এখন বাংলাদেশকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে বাহ্যিক ভারসাম্য রক্ষার কম সুযোগ নিয়ে। অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিটি তীব্র হতে পারে। মধ্যশক্তিগুলো যখন অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা গড়তে অন্তর্মুখী হবে, তখন উন্নয়ন সহায়তা ও পছন্দসই বাণিজ্যের শর্তাদি কমে যেতে পারে অথবা কঠোর রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যেকোনো পক্ষ থেকে আসা স্বেচ্ছাচারী অর্থনৈতিক জবরদস্তির হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা কঠোর অর্জিত উন্নয়নকে বিপন্ন করবে।

তবে এ বিপদের মধ্যেই একটি স্বতন্ত্র সুযোগও নিহিত। মধ্যশক্তিগুলো একটি কার্যকর জোট গড়ে তুলতে গিয়ে অংশীদার খুঁজবে। কৌশলগতভাবে অবস্থিত, অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল ১৭ কোটি মানুষের একটি জাতি তখন মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে লক্ষ্যে পরিণত হবে। বাংলাদেশ এটিকে কাজে লাগিয়ে তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নিজের প্রত্যক্ষ এলাকার বাইরেও সম্প্রসারিত করতে পারে, মধ্যশক্তির জোটগুলো থেকে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের প্রবেশাধিকার পেতে পারে, যারা তাদের নতুন মডেলের সুবিধা প্রদর্শন করতে আগ্রহী। এর জন্য প্রয়োজন স্মার্ট ও সার্বভৌম একটি পররাষ্ট্রনীতি যা যেকোনো একক শক্তির ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এড়ায় এবং নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে গভীর বিনিয়োগ করে। লক্ষ্য হবে মহাশক্তির প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু হওয়া থেকে বেরিয়ে আঞ্চলিক নিয়মের একজন সক্রিয় নির্মাতায় পরিণত হওয়া, নিজের জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক ওজন ব্যবহার করে নতুন ব্যবস্থার নবগঠিত নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে অনুকূল অবস্থান নিশ্চিত করা।

শোকসংবাদের পর: সত্যের সঙ্গে বসবাস

মার্ক কার্নির দাভোস ভাষণকে স্মরণ করা হবে সেই মুহূর্ত হিসেবে যখন কূটনৈতিক বিশ্ব তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলা বন্ধ করবে। পুরনো ব্যবস্থার মৃত্যু ঘোষণা করে তিনি জাতিগুলোকে এ ক্লান্তিকর ভান ও ভণ্ডামি থেকে মুক্ত করেছেন যে এর পুনর্জন্ম আর আসবে না; নতুন ব্যবস্থার প্রসব নিয়ে সক্রিয় হওয়া। এখন হ্যাভেল ও কার্নির পরিভাষায় করণীয় হলো ‘সত্যের সঙ্গে বাস করা’। এর অর্থ হলো, এ স্বীকৃতি নিয়ে এগোনো যে আগামী দশকগুলো নির্ধারিত হবে নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে পরিচালিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে, যেখানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তা থেকে আলাদা নয়। উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ের দেশগুলোর জন্য কর্তব্যটি স্পষ্ট: গড়ে তুলতে হবে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা, লালন করতে হবে বৈচিত্র্যময় মৈত্রী এবং রক্ষা করতে হবে নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার সেই অংশগুলো, যা রক্ষার যোগ্য। শেষকৃত্য শেষ। অনিশ্চিত ভিত্তির ওপর একটি নতুন ঘর—একটি নতুন আর্থসামাজিক ভিত্তিসহ—যা গড়ে তোলার কঠিন কাজ শুরু হয়েছে। বড় দেশ-ছোট দেশ, উন্নত দেশ-উন্নতিশীল দেশ, সবার জন্যই। যার যার স্থান নিজেদের ঠিক করে নিতে হবে এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে পারস্পরিকতা ও সহযোগিতার ভিন্ন, বৈচিত্র্যময় এবং কার্যকরী মডেল ও কাঠামো তৈরি করতে হবে।

ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, অর্থনীতি বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ