দেশের আহরিত সরকারি রাজস্বের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কর, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও কাস্টমস অফিসগুলোর অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের মাধ্যমে। তবে আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ অপ্রতুল। বার্ষিক বাজেটের প্রায় অর্ধেকই সংস্থান করতে হয় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘ সময় ধরে ৮ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যা এশিয়ায় এমনকি সারা বিশ্বে সর্বনিম্ন। প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহে গুরুত্বারোপ, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ভ্যাট আইন প্রয়োগ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করে রাজস্ব বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হলেও আশানুরূপ ফল লাভ হয়নি। দেশের মাত্র ৪৩ লাখ লোক বার্ষিক আয়ক রিটার্ন দাখিল করে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ করদাতা ৩০ লাখ অতিক্রম করবে না।
করজাল সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে বেশকিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বিলম্বে হলেও কর ও কাস্টমস অফিস এবং জনবল বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে করের আওতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কর কমিশনারেটের সংখ্যা ২৩টি বৃদ্ধি করায় মোট জোনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪টি। অফিস সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনবলও বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধির জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে, যদিও দেশের সব বড় বড় বিক্রয় কেন্দ্রে মেশিন সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ভ্যাট আদায়েও রয়েছে দুর্নীতি ও গাফিলতি।
গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। রাজস্ব সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটি গত জানুয়ারিতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার রাজস্ব সংগ্রহ পলিসি বা নীতি এবং রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা আলাদা করে। ১২ মে এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ (২০২৪-২৫) জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামক দুটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই অধ্যাদেশ জারির পর এনবিআরে, কর্মরত কর ও কাস্টমস ক্যাডার কর্মকর্তারা তাদের চাকরিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাদের মতে এ অধ্যাদেশে সংস্কার কমিটির সুপারিশ পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। নবসৃষ্ট উভয় বিভাগে অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর ও কাস্টমস ক্যাডার কর্মকর্তারাও কাজ করবেন—এ বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বিভাগের শীর্ষপদে ও সিনিয়র পদগুলো প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডার কর্মকর্তারা পদায়িত হতে পারে মর্মে কর ও কাস্টমস ক্যাডার কর্মকর্তারা মনে করছেন। বর্তমানে এনবিআরে এ বৃহৎ দুটি ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য সৃষ্টপদ ও পদোন্নতির সুবিধা নবসৃষ্ট বিভাগের অধীন অফিসগুলো অব্যাহত থাকবে কিনা, কিংবা তাদের নিয়োগ ও পদোন্নতি আরো সীমিত বা প্রশস্ত হবে কিনা এসব বিষয় অধ্যাদেশে স্পষ্টীকরণ হয়নি। তাছাড়া এনবিআর কর্মকর্তাদের ধারণা, সরকার রাজস্ব সংস্কার কমিটির দেয়া সুপারিশমালা আমলে না নিয়ে একতরফা ও গোপনীয়ভাবে অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করেছেন।
এসব কারণে এনবিআরের অধীন দুটি ক্যাডার কর্মকর্তারা ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্যপরিষদে’র ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কর্মকর্তারা ‘কলম বিরতি’ পালনসহ অন্যান্য কর্মসূচি চালিয়ে যান। এরই মধ্যে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফলাফলেও তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি, বরং আন্দোলনের এজেন্ডা হিসেবে যুক্ত হয়েছে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ।
গত ৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আর্থিক খাত পুনর্গঠনে সার্বিক চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দেশের অর্থনীতি এখনো স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের কারণে রাজস্ব আহরণেও দেখা যাচ্ছে বড় ঘাটতি। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের কলম বিরতির প্রভাবে ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়ছে। ফলে রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের বাস্তবায়ন হুমকি ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কর্মকর্তাদের লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘটে এনবিআরএ বলতে গেলে অচলাবস্থা বিরাজ করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ সৃষ্টির যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, একটি স্বচ্ছ ও আরো যোগ্য কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এশিয়ায় সর্বনিম্ন।
ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়েছে নীতিনির্ধারণ এবং প্রয়োগ—দুটো এক ছাদের নিচে থাকার ফলে করনীতির সঙ্গে আপস এবং ব্যাপক অনিয়মের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় কর আদায়ের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কোনো জবাবদিহিতা কাঠামোর অধীনে নন। তারা প্রায়ই জনস্বার্থের বিপরীতে কর ফাঁকিবাজদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকেন। এনবিআরের বর্তমান কাঠামো নীতি প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিতে পারছে না। ফলে করজাল সংকীর্ণ রয়ে গেছে এবং রাজস্ব আদায় সম্ভাবনার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমান সংস্কারের মাধ্যমে দুটি বিভাগ সৃষ্টি করে দুই বিভাগের দায়িত্ব স্পষ্ট এবং আরো জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। এর ফলে স্বার্থের সংঘাত থাকবে না। করজাল সম্প্রসারিত হবে, পরোক্ষ কর আদায় বাড়বে।
এনবিআর কর্মকর্তাদের কারো কারো মতে প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের কিছু মন্তব্য এনবিআরের এ পর্যন্ত অর্জনকে খাটো করে দেখা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও জবাবদিহিতার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বস্তুত এনবিআর সৃষ্টির প্রথম বছর ১৯৭২-৭৩ সালে আহরিত ১৬৬ কোটি টাকার রাজস্ব ৫১ বছরের ব্যবধানে গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আগে বস্তুনিষ্ঠ ও অর্জনযোগ্য রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হতো। বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রা বিগত বছরের আহরণের চেয়ে ৩০ বা ৪০ শতাংশ বেশি থাকে বলে তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। কয়েক বছর ধরে এনবিআর এর প্রশাসনিক সংস্কার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী মহলে আটকে থাকার কারণে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থা অর্থাৎ কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অফিস দেশব্যাপী সম্প্রসারণ সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন ও কর আহরণ ব্যবস্থা অটোমেশনের আওতায় এলে করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে। এর ফলে কর ফাঁকিও কমবে।
রাজস্ব আহরণ, ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়ন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে সংস্কার হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, অংশীজনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে। অভিজ্ঞ মহলের অনেকেই বলেছেন, দ্রুততার সঙ্গে এনবিআর বিলুপ্ত করে নীতি ও আহরণ ব্যবস্থাপনা আলাদা করার প্রক্রিয়াটি সঠিক হয়নি। আলাপ-আলোচনা করে বিভাজনটি আরো সুনির্দিষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করা যেত।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, এনবিআরের নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ একই ছাদের নিচে একজন সচিব/চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে হলেও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত টিম অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, অর্থমন্ত্রী এবং সরকারপ্রধানের পরামর্শ গ্রহণ এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে নীতি প্রণয়ন করে থাকে। এখানে স্বার্থের সংঘাতটি হচ্ছে ‘রাজস্ব বৃদ্ধির’ লক্ষ্য। অবশ্য দেশীয় শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা ও সুরক্ষার দিকেও দৃষ্টি রাখা হয়। লক্ষ্যপূরণ নির্ভর করে দেশের সার্বিক অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, দেশের মানুষের ভোগের সামর্থ্য ও চাহিদা, সরকারি ব্যয় ইত্যাদির ওপর। অর্থনীতির স্থবিরতা বা নিম্নগতি, বেকার সমস্যা, জনমানুষের খরচ করার সামর্থ্য হ্রাস ইত্যাদি রাজস্ব বৃদ্ধির অন্তরায়।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এনবিআর পুনর্গঠনের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ী মহল, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের অনেকেই এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে সিপিডিসহ কোনো কোনো অর্থনীতিবিদের মতে, যে প্রক্রিয়ায় এনবিআরের নীতি ও আহরণ ব্যবস্থা বিভক্ত করা হয়েছে তা ঠিক হয়নি। সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস ক্যাডার, যারা রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাদের যৌক্তিক মতামত আমলে নেয়া অতীব প্রয়োজন। ২৫ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কলম বিরতি পালনের পর ‘ঐক্য পরিষদ’ ২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকাল পূর্ণ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ২৫ মে সন্ধ্যায় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে—
১. যেহেতু অধ্যাদেশটি প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বাস্তবায়ন করার কাজটি সময়সাপেক্ষে, এনবিআরের সব কার্যক্রম আগের মতো অব্যাহত থাকবে।
২. বিসিএস কর ও বিসিএস কাস্টমস ক্যাডারের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে পৃথককরণের প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে প্রণীত হবে, তা এনবিআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
৩. উভয় ক্যাডারের সদস্যদের বর্তমান পদ-পদবি কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই, বরং সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে তাদের পদসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং বিভাগের শীর্ষপদে নিয়োগসহ পদোন্নতির সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। এনবিআর বিলুপ্ত না করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে পুনর্গঠন করা হবে।
৪. এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক সার্বিক সুরাহার স্বার্থে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অধ্যাদেশটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপর্যুক্ত আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর ও কাস্টমস ক্যাডার কর্মকর্তারা তাদের ঘোষিত কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। ঐক্যপরিষদ ২৬ মে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণের জন্য ২৯ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। কিছুদিন ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান অফিসে আসতে পারছেন না। এ বিষয়টির সুরাহার জন্য সরকারের আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব ও বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে চলতি অর্থবছরে বিগত ১০ মাসে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। এ পর্যন্ত রাজস্ব আদের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা করোনাকালীন ২০১৯-২০ অর্থবছর ব্যতীত বিগত প্রায় ১০-১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। উপরন্তু গত প্রায় দুই সপ্তাহ ‘কলম বিরতি’ রাজস্ব সংগ্রহ কাজ অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। সরকার ও এনবিআরের কর্মকর্তারা বিষয়টি অনুধাবন করে অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করবে এটিই জনগণ প্রত্যাশা করে।
এর মধ্যে জনবল ও কর অফিস সংখ্যা বাড়লেও কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস সম্প্রসারণ প্রস্তাব সরকার কর্তৃক এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ অর্থাৎ রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা আলাদাকরণের পাশাপাশি কর ও ভ্যাট অফিস জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ থানা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং জনবল বৃদ্ধির কাজটিও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিরা ও ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে করজাল সম্প্রসারণে জরিপ পরিচালনার জন্য অফিস ও জনবল বৃদ্ধি অপরিহার্য। অনুরূপভাবে শুল্ক স্টেশন সম্প্রসারিত করে শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান, অর্থ পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া: এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান










